Logo
আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

ব্ল্যাক হানি না সাধারণ মধু- কোনটি বেশি উপকারী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ২৯৮জন দেখেছেন

Image

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিস্ময়কর এক প্রাকৃতিক উপাদান মধু। যা এক প্রকার মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ। মধু তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই সম্পন্ন করে মৌমাছি। বিভিন্ন ফুলের নির্যাস বা রস সংগ্রহ করে রহস্যময় প্রক্রিয়ায় মধু সৃষ্টি করে তারা।

পবিত্র কোরআন থেকে শুরু করে চিকিৎসা বিদ্যা- সবখানেই মধুর নানা উপকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। অগণিত শারীরিক সমস্যার সমাধান রয়েছে এই প্রাকৃতিক পদার্থটিতে। মধুর কিন্তু বিভিন্ন নাম রয়েছে। রঙ, গঠন কিংবা উৎসের ওপর নির্ভর করে এর নাম করণ করা হয়। মধুর এমনই একটি প্রকার ‘ব্ল্যাক হানি’। বাংলায় যাকে কালো মধু বলতে পারেন।

মধু মাত্রই উপকারি। তবে তুলনার কথা আসলে সাধারণ মধুর চেয়ে কালো মধু কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। স্বাদ, গঠন, রঙ, পুষ্টি উপাদান, স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে প্রতিনিয়ত এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কালো মধু কেন সাধারণ মধুর চেয়ে বেশি উপকারি, জানুন এই প্রতিবেদনে-

মধুর উৎস ফুলের নির্যাস এ কথা আমাদের সবার জানা। বছরের একেক সময় একেক ফুল ফোটে। সময়ের ওপর এদের ধরনে পরিবর্তন আসে। মূলত ফুলের ধরনের ওপর নির্ভর করে মধুর রঙ কেমন হবে। এই যেমন সরিষা ফুলের মধু হালকা সোনালি রঙের। সেই তুলনায় কালোজিরা ফুলের মধু কালচে হয়ে থাকে।

কালো মধু কী?
যে মধুর রঙ গাঢ় বাদামি বা কালচে হয় তাকে কালো মধু বলা হয়। সাধারণ মধুর তুলনায় এর ঘনত্ব হয় বেশি, রঙও গাঢ়। একারণে এই মধুকে অনেকে ডার্ক হানি বা গাঢ় মধু নামেও চেনেন। প্রশ্ন থাকতে পারে, এই মধুর রঙ কালো বা বাদামী হয় কেন? কারণ যে সব ফুলের পরাগ গাঢ় বা কালচে রঙের, সে সব ফুলের রস সংগ্রহ করেই এই বিশেষ মধু তৈরি হয়।

ব্ল্যাক হানির প্রকারভেদ?
ফুলের ওপর নির্ভর করে কালো মধুর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। কিছু জনপ্রিয় কালো মধু হলো- ব্ল্যাকবাট, বাকউইট, মেনুকা, জাররাহ, থাইম, চেস্টনাট, ড্যান্ডেলিয়ন, মেডো ইত্যাদি। প্রতিটি ধরনেরই রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব। এই যেমন, মেনুকা হানি। নিউজিল্যান্ডের মেনুকা গাছের ফুলের নির্যাস বা রস সংগ্রহ করে মৌমাছিরা এই মধু তৈরি করে, এছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন রেইন ফরেস্ট গুলোতে অতি উচ্চ মানের কিছু কালো মধু পাওয়া যায়। এতে সাধারণ মধুর সব পুষ্টি উপাদান তো রয়েছেই, বাড়তি পাওনা হিসেবে আছে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড। যা অন্য মধুতে নেই।

কালো মধু আর সাধারণ মধুর মধ্যে পার্থক্য কী?
সাধারণ মধু আর কালো মধু তৈরি প্রণালি, সংগ্রহের উপায় সবটাই এক। সব মধুই মৌমাছিরা ফুল থেকে আহরণ করে এবং মৌচাকে জমায়। আর মৌচাক থেকে তা মানুষ সংগ্রহ করে। তাহলে এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য কোথায়? কোনটির পুষ্টি গুণই বা বেশি?

সাধারণ মধু আর কালো মধুর বাহ্যিক পার্থক্য রঙে আর ঘনত্বে। কালো মধু তুলনা মূলক কালচে হয়। এতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম হওয়ায় ঘনত্ব আর পুষ্টি দুটোই সাধারণ মধুর থেকে বেশি থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, বাকউইট ফুলের মধুতে সাধারণ মধুর তুলনায় ২০ গুণ বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। কালো মধুতে প্রচুর ফ্রুক্টোজ থাকে। মিষ্টির তীব্রতা সাধারণ মধুর তুলনায় বেশি হওয়ায় অল্প পরিমাণেই বেশি মিষ্টতা মেলে।

আমরা দোকান থেকে যে মধু কিনি তার বেশির ভাগই মৌচাক থেকে সংগ্রহ করার পর পাস্তুরায়ন করা হয়। খাঁটি মধুতে প্রিবায়োটিক, প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ (পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) এবং ভিটামিন (বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬ এবং সি) সহ ১৮০টির বেশি পদার্থ রয়েছে। এই উপকারি যৌগ গুলোর বেশির ভাগই পাস্তুরাইজেশনের সময় তাপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট ফুলের মধু থেকে সৃষ্ট কালো মধু সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো হয়। ফলে পুষ্টি উপাদান গুলো অক্ষুণ্ণ থাকে।

কালো মধু রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তারুণ্য ধরে রাখতে এর বিকল্প নেই। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই বিভিন্ন রোগের সঙ্গে শরীর সহজে লড়াই করতে পারে।

দুই ধরনের মধুই উপকারি। কোনটি খাবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনার। সাধারণ চা বা অন্য পানীয়তে চিনির বদলে মিষ্টি কিছু খেতে চাইলে বেছে নিতে পারেন হালকা বা সাধারণ মধু। আর আপনি যদি সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশি পুষ্টিকর কিছু খেতে চান তবে কালো মধু খান। মজবুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মিলবে এতে।

ব্ল্যাক হানি বা কালো মধু পাবেন কোথায়?
ভেজালের ভিড়ে খাঁটি মধু খুঁজে পাওয়াটাই কঠিন। সে ক্ষেত্রে কালো মধুর খোঁজ মেলা আরও জটিল বটে। তবে ইন্টারনেটের কল্যাণে বর্তমানে আমাদের দেশে এই মধুর চাহিদা বেড়েছে। গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনায় কিছু বিদেশি ব্র্যান্ড দেশের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুপার স্টোর, ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স সাইট ব্ল্যাক হানি এনেছে। এছাড়া দেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড, ‘কারকুমা’ ব্র্যান্ড নামে অর্গানিক ব্ল্যাক হানি বাজার জাত করছে। এটি ইউএসডিএ অর্গানিক সার্টিফাইড। লেভেল ও উৎস দেখে পছন্দ মতো জায়গা থেকে ব্ল্যাক হানি কিনতে পারেন।


আরও খবর



মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৮০জন দেখেছেন

Image

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল সাতটা নাগাদ ধানমন্ডিতে সরকার প্রধান হিসেবে প্রথমে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর দলীয় প্রধান হিসেবে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এর আগে, ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্মৃতিসৌধে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির পরপরই জাতির সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।


আরও খবর



জমজমাট ঈদ কেনাকাটা, গরমে আরামে নজর ক্রেতাদের

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৯৭জন দেখেছেন

Image
আর দুই সপ্তাহ পরেই ঈদ। ইতোমধ্যে জমে উঠেছে রাজধানীর ঈদ বাজার। মূলত গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রোদ ও গরম উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজনদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদামে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্তও চলছে কেনাবেচা। ফুটপাত ও ভ্যানগাড়িতে অস্থায়ীভাবে বসা দোকানেও কেনাকাটা চলছে পুরোদমে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, মহাখালী এসকেএসসহ বিভিন্ন শপিংমল ছিল লোকে লোকারণ্য। মানুষ নিজেদের সাধ্যমতো প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। এসব মার্কেটের ভিতরে ও আশপাশের রাস্তাগুলোতেও হাঁটার মতো অবস্থা ছিল না। সবখানেই ক্রেতাদের ভিড়। বিক্রেতারা বাহারি রঙের সব পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন। কেউ পোশাক শরীরে ট্রায়াল দিচ্ছেন। কেউবা বাচ্চাদের পোশাক কেনায় ব্যস্ত। কেউবা শাড়ি, কসমেটিকস, গহনা, জুতার দোকানে ভিড় জমিয়েছেন। ছেলেদের পাঞ্জাবির দোকান গুলোতেও ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। থেমে নেই কেউ, সবাই ছুটছেন পছন্দের পোশাকের সন্ধানে। ভিড়ের কারণে ক্রেতার সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। এর মধ্যেই পছন্দের কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। ছেলেরা বেশি কিনছেন শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি। আর তরুণী ও নারীরা কিনছেন শাড়ি, থ্রি-পিস ও ফ্রক। এ ছাড়া জুতার দোকানেও বিক্রি বেড়েছে অনেক।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন কালেকশনের বাহারি কারুকাজ, হাতের নকশা, নানা রঙের কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের নতুন পোশাক। নতুন সাজে সেজেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ক্রেতারা বলেন, বসুন্ধরা সিটিতে এক জায়গাতেই সব ধরনের সামগ্রী একসঙ্গে পাওয়া যায়। এ মার্কেট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকায় কেনাকাটাও আনন্দদায়ক। ফ্যাশন হাউস ইয়োলোর এক বিক্রয় কর্মী জানান, ঈদ এবং গরমকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইনে আনা হয়েছে নতুনত্ব। গরমকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা এসব পোশাকের দাম রাখা হয়েছে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যেই। এ ছাড়াও বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন শো-রুম, নিপুণ, সৃষ্টি, সাদাকালো, দেশাল, রঙ বাংলাদেশ, কে-ক্রাফট, অঞ্জন্স, জ্যোতি, জেন্টস পয়েন্টসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের শো-রুম ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দ হলেই কিনছেন ক্রেতারা। 

মহাখালী এসকেএস মার্কেটে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এখানে পাঞ্জাবি, পায়জামা, শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, কসমেটিকস, জুয়েলারিসহ সব ধরনের আইটেমই রয়েছে। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা কম থাকলেও বিকালের পর থেকে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড জিওর্দানোর বিক্রয়কর্মী নাসিমুল হক হৃদয় বলেন, আমাদের এখানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা চলছে। প্রত্যাশা করছি সামনের দিনগুলোতে আরও বিক্রি বাড়বে। আমাদের এখানে ছেলেদের ইমপোর্ট করা সব ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। শার্টের জন্য বিখ্যাত আমাদের ব্র্যান্ড।

আরও খবর



ঈশ্বরদীতে ৭ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৮৭জন দেখেছেন

Image

পাবনার ঈশ্বরদীতে তেলবাহী ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহ সূফী নুর মোহাম্মদ। 

তিনি জানান, ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঈশ্বরদী হতে খুলনাগামী তেলের খালি ওয়াগন নিয়ে একটি ট্রেন রওনা করলে তা ঈশ্বরদী লেভেল ক্রসিং গেইট অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে পুশিং এ আসা মালবাহী শানটিং ওয়াগনে আঘাত করে। এতে মালবাহী ২টি ওয়াগনের ৮ চাকা এবং লোকোমোটিভের সবগুলো চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৭ ঘণ্টা পর সকাল ৭টার দিকে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ কারখানা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন প্রথমে মালবাহী ট্রেনকে উদ্ধার করে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর তেলবাহী ট্রেনকে উদ্ধার করা হয়। এখন সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে দুই ট্রেনের দুই চালকসহ তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাত পৌনে ১২টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে মালবাহী দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি ইঞ্জিন ও দুটি বগির ৮ চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-খুলনা রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।


আরও খবর



এমপি-নেতারা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারবেন না

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৭১জন দেখেছেন

Image

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা কাউকেই প্রার্থী করতে পারবেন না। দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল কোনো নেতাও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। তবে স্থানীয় কোনো নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে দল থেকে কোনো অবস্থায়ই কাউকে সমর্থন করা যাবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে সিরিজ বৈঠকের প্রথম দিনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রংপুরের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় নেতারা ছাড়াও ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর নেতারা এবং দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের ডাকা হয়েছে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ও জেলার কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ, উন্মুক্ত নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিরাসহ স্থানীয় নেতারা যার যার মতো করে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে কিংবা নতুন করে প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে উপজেলায় পছন্দের নেতাদের প্রার্থী করার এই প্রবণতাকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় দলের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা এলো। 

এর আগে সূচনা বক্তব্যে বৈঠকের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বলে জানান। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সব ধরনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের কঠোর তাগিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করতে এমপি কিংবা নেতাদের কারও হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন। 

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো আগামীতে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তাই এসব নির্বাচনকে ঘিরে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় কোন্দলের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ও উন্নয়ন কর্মককাণ্ড ম্লান না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা আরও জানান, রংপুর মহানগরসহ রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছায় আওয়ামী লীগে আগে থেকেই অন্তর্কোন্দল রয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধার জেলা-উপজেলায়ও নতুন করে কোন্দল রয়েছে। এই কোন্দল নিরসনসহ দল গোছাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বিশেষ দুর্গম চরাঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

সূত্রমতে, বৈঠকে রংপুর মহানগরীর ছয় থানা কমিটি অনুমোদনের ক্ষমতা খর্ব করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের, যা এখন কেন্দ্রীয় কমিটি করবে। একইভাবে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো জেলা কমিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন কিংবা ভাঙতে পারবে না এবং কাউকে পদ থেকে অব্যাহতিও দিতে পারবে না বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এর আগে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রংপুর মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও ফের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মহানগরের ছয় থানা কমিটি গঠনের এক বছর পার হলেও অনুমোদন না দেওয়া, আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করাসহ নানা কারণে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা বিরাজ করে, নেতকর্মীর মাঝেও দেখা দেয় বিভক্তি। গতকালের বৈঠকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরে স্থানীয় নেতারা এর অবসানে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চান। এই অবস্থায় কেন্দ্র থেকে থানা কমিটি অনুমোদনের ওই সিদ্ধান্ত আসে। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সমকালকে বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করা হয়েছে। যেখানে দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল ও মতানৈক্য দূর করে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীর ভূমিকা রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

দলের পঞ্চগড় জেলা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের কোনো নেতা কিংবা এমপি উপজেলায় চেয়ারম্যান বা কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। 

দলের রংপুর মহানগর আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রংপুরসহ বিভাগের কিছু কিছু সাংগঠনিক জেলায় সমস্যা আছে। যার সমাধানে বৈঠকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। এ ছাড়া থানা বা উপজেলা কমিটি গঠন বা ভাঙতেও কেন্দ্রের নির্দেশনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নীলফামারী জেলা সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহম্মেদ এবং লালমনিরহাট জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান এমপি জানান, বৈঠকে দলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। 

দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা জানান, আগামী নির্বাচনগুলো যাতে করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য সব নেতাকর্মীকে সজাগ থাকাসহ সংসদ নির্বাচন নিয়েও মনোক্ষণ্ন কিংবা হতাশা না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই রকম কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক রায় ও কুড়িগ্রাম জেলার সহসভাপতি সাঈদ হাসান লোবান।


আরও খবর



৯ বছর পর চালু হচ্ছে বিমানের ঢাকা-রোম ফ্লাইট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ৯০জন দেখেছেন

Image

৯ বছর পর চালু হচ্ছে বিমানের ঢাকা-রোম ফ্লাইট। এটি হতে যাচ্ছে বিমানের ২৩তম রুট।মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ইতালির রোমের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বিমানের প্রথম একটি ফ্লাইট। বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ তাহেরা খন্দকার।

লোকসানের কারণে ২০১৫ সালে এই রুটটি বন্ধ করে দেয় বিমান। এবার বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আজিম। সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। বিমানের বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে রোম ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

ইতালির রাজধানী রোমসহ মিলান, ভেনিসে বসবাস করছে কমপক্ষে ২ লাখ বাংলাদেশি, এর বাইরে বছর জুড়ে দেশটিতে যাচ্ছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। ইতালি তো বটেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত অন্য কোনো দেশে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি কোনো ফ্লাইট চালু নেই। এত দিন ভরসা ছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এয়ারলাইনসগুলো। এতে করে ট্রানজিট নিয়ে ১৫-১৬ ঘণ্টা লেগে যেত ইতালি পৌঁছতে। ইতালিতে আজ দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় চালু হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এতে করে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে রোম যাওয়া যাবে। রোমে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। একই দিন রোম থেকে আরেকটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। রোম পর্যন্ত ইকোনমি ক্লাসে সর্বনিম্ন একমুখী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা আর দ্বিমুখী ১ লাখ ৪ হাজার টাকা।

২০০৫ সালে বিমানের ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিমানের মোট ৩১টি রুট চালু ছিল। তখন বেশির ভাগ উড়োজাহাজ ছিল ভাড়া নেওয়া। এখন বিমানে ১৬টি বোয়িংসহ ২১টি নতুন উড়োজাহাজ রয়েছে। তাই আস্তে আস্তে বিমানের নতুন রুটও চালু করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের পরবর্তী গন্তব্য মালদ্বীপ ও চীনের কুনমিং।

১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল ইতালির রোমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইট চালু হয়। নানা কারণে ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল তা বন্ধ হয়ে যায়।


আরও খবর