Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

যত দিন আল্লাহর নাম উচ্চারিত হবে, তত দিন দুনিয়া টিকে থাকবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯৫জন দেখেছেন

Image

মহান আল্লাহ মানুষকে যত নিয়ামত দিয়েছেন তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ঈমান। কারণ বান্দা যা-ই করুক না কেন, ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে যেতে পারলে কোনো একসময় সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৪)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না; বরং আল্লাহই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৮)

উভয় জগতে ফেরেশতারা যাদের বন্ধু : কোনো অপরিচিত জায়গায় বন্ধুবান্ধব থাকলে মানুষ মনে জোর পায়। সম্ভাব্য সহযোগিতার আশা করে। সহযোগিতা পেয়েও থাকে। মহান আল্লাহ উভয় জগতে ফেরেশতাদের ঈমানদারদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা তোমাদের বন্ধু দুনিয়া ও আখিরাতে...।’ (সুরা হা-মিম আসসাজদা, আয়াত : ৩১)

যাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা : মহান আল্লাহ ঈমানদারদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের জন্য রয়েছে সঠিক পথপ্রাপ্ত হওয়ার ঘোষণা। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানে কোনো ত্রুটি মিশ্রিত করেনি, তাদেরই জন্য আছে নিরাপত্তা আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৮২)

যারা সৃষ্টির সেরা : যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে মহান আল্লাহ তাদের সৃষ্টির সেরা ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, নিশ্চয় তারাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে উত্কৃষ্ট।’ (সুরা বায়্যিনাহ, আয়াত : ৭)

যাদের সবাই ভালোবাসতে বাধ্য : সবাই চায় সবাই তাকে ভালোবাসুক। মহান আল্লাহ বলেন, তিনি ঈমানদার সৎ কর্মপরায়ণদের প্রতি সবার ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে দয়াময় অবশ্যই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৯৬)

যেভাবে ঈমান বাড়ে : মহান আল্লাহর আনুগত্য করলে ঈমান ও মর্যাদা বাড়ে, নাফরমানি করলে কমে। নাফরমানি দ্বারা অন্তরে জং ধরে যায়। তখন ভালো কাজ আর ভালো লাগে না। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, “মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে তাওবা করলে, পাপ কাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরো গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা, যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন (অনুবাদ) : ‘কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৪)

দুনিয়া তত দিন টিকে থাকবে : যত দিন দুনিয়াতে ঈমানদার থাকবে এবং তাঁদের দ্বারা আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতে থাকবে তত দিন দুনিয়া টিকে থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ বলার মতো লোক থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭০)

আল্লাহ তাআলা সবাইকে প্রকৃত ঈমাদানদার ও সৎ কর্মপরায়ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ঈধিকার পর এবার মিমি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ২২জন দেখেছেন

Image

'তুফান’ সিনেমায় চিত্রনায়ক শাকিব খানের নায়িকা কে হচ্ছেন তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই মিডিয়া পাড়ায় আলোচনা চলছে। একাধিক নায়িকাকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চললেও এখন অবধি সিনেমাটির নির্মাতা রায়হান রাফি বা শাকিব খান, কেউই মুখ খোলেননি।

তবে এবার জোর আলোচনা চলছে সিনেমাটিতে কলকাতার মিমি চক্রবর্তীকে দেখা যাবে শাকিবের সঙ্গে রোমান্স করতে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ‘তুফান’ সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে দেখা যাবে কলকাতার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে। আগামী মার্চে ভারতের রামুজিতে শুরু হবে সিনেমাটির শুটিং।

তুফান’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে আলফা আই, চরকি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ। তবে নায়িকা ইস্যুতে এ তিন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

উল্লেখ্য, গত বছর ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সিনেমার নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় সিনেমাটির নির্মাতা রায়হান রাফী বলেন, ‘সুড়ঙ্গ সিনেমার পর আমার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল বড় আয়োজনে সিনেমা বানানোর। সেটা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। দেশের বড় সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করছি।  তাকে নিয়ে দেশের বড় সিনেমাটিই আমি উপহার দেবো।’


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি শনাক্তের পরও খালাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৯জন দেখেছেন

Image

চট্টগ্রাম কাস্টমসে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। আমদানি পণ্যের বিবরণে তুচ্ছ ভুল বা ওজনে সামান্য হেরফেরের কারণে ক্ষুদ্র আমদানিকারক ও উৎপাদকদের ২০০ শতাংশ জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। অথচ শনাক্তের পরও আমদানি নিষিদ্ধ ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লোমেট) খালাসের অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ পণ্য খালাসে জড়িতদের শনাক্তে গঠিত তদন্ত কমিটি কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি! পুরো ঘটনাকে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের দুর্বলতা এবং মানুষের ‘মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তাকে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২০২২ সালে ঢাকার মিটফোর্ডের একটি বাণিজ্যিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২০ হাজার ১৬০ কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার (চুনাপাথর) আমদানি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের এআইআর (গোয়েন্দা) শাখা পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখতে পায়, চালানে ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি এবং ৬ হাজার কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার রয়েছে। এ ঘটনায় এআইআর শাখা থেকে আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও জেটি সরকারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই পণ্য পরে ছাড় করা হয়।

ঘনচিনি মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমদানি নীতিতে নিষিদ্ধ। ২০০৬ সালে ঘনচিনির ব্যবহার ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। ঘনচিনি চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি; দামও কম, স্বাদ প্রায় চিনির মতোই। ঘনচিনির ব্যবহার ক্যানসার ঝুঁকি বাড়ায়। মানব হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় একে মাইয়োকার্ডিয়াল ক্যালাসিফিকেশন বলা হয়। এটি শুধু হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির ক্ষেত্রেই ঘটে তা নয়; বরং মূত্রথলিসহ দেহের অন্যান্য পেশিতে এ ঘটনা ঘটে। সেক্স ক্রোমোজমের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক সন্তানের জন্ম হতে পারে। ঘনচিনির ব্যবহারে পুরুষের অণ্ডকোষের ক্ষতি হয়, টেস্টস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। তাতে পুরুষত্বের হানি ঘটতে পারে। যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। তার ফলে সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা সৃষ্টি হতে পারে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ১২টি প্যাকেটজাত ও ৪টি খোলা চিনির নমুনা সিঙ্গাপুরের প্যাসিফিক ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে তাতে সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার দাবি করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য চালান বন্দরে পৌঁছানোর দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) জমা না দেওয়ায় সন্দেহবশত এআইআর চালানটি লক করে। কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা উত্তোলন করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ কারণে এআইআর বিল অব ল্যাডিং (বি/এল) লক করে এবং ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর টার্মিনাল ম্যানেজারকে কনটেইনারটিকে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখতে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২৭ নভেম্বর কমিশনার ফাইলে মামলার সিদ্ধান্ত দেন।

যেভাবে পণ্য খালাস নেওয়া হয় : ফৌজদারি মামলার সুপারিশের প্রায় ৩ মাস পর কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ও পরামর্শে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট কৌশলে পণ্য খালাস নিতে এআইআর শাখায় ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বি/এল আনলক করার আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআইআর শাখা নতুন আরেকটি ফাইল খুলে বি/এল আনলকের পর নিয়ম অনুযায়ী বি/ই নোটিং করে এবং পরে সেই বি/ই লক করা হয়। ২১ জানুয়ারি কায়িক পরীক্ষার জন্য নমুনা উত্তোলন করা হয়। স্যাম্পল চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে রাসায়নিক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়, অর্থাৎ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার পাওয়া যায়। এমনকি পরে শুল্ক গোয়েন্দার কায়িক পরীক্ষায়ও ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়। কায়িক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারিতে পণ্য খালাস দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য খালাসে ৪টি নথি খোলা হয়। এআইআর শাখার একটি নথি খোলা হয় বি/এল নম্বর দিয়ে। ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার পর বি/এল লক করে সেই নথি এআইআর শাখা থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শুল্কায়ন শাখায় পাঠানো হয়। প্রায় এক মাস পর আরেকটি নথি খোলা হয়, আমদানিকারকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বি/এল আনলকের জন্য। এ নথির মাধ্যমে বি/এল আনলকের পর বি/ই নোটিং করে আবারও লক করা হয়। পরে শুল্কায়ন শাখার কায়িক পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে মালামাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। যে রিপোর্টে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পণ্য খালাস নেওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩১ মে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এআইআর শাখা তৎকালীন উপকমিশনার সাইফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে সিএন্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স বাতিল, আমদানিকারককে নজরদারিতে রাখা এবং এআইআর শাখার তৎকালীন শাখা সহকারীকে বরখাস্তের সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাখা সহকারীকে প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করা হলেও পরে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ১৩ জুলাই উপকমিশনার এইচএম কবিরকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল অব এন্ট্রির (বি/ই) মতো বিল অব ল্যাডিং (বি/এল)-এর কনটেইনার কায়িক পরীক্ষার পর অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে ইনপুট দেওয়ার মতো ইন্সপেকশন অ্যাক্টের ব্যবস্থা নেই। ফলে বি/এল লকের পর কায়িক পরীক্ষার বিষয়টি অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে পাওয়া যায়নি। এটা অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বড় দুর্বলতা। এ দুর্বলতার সুযোগে ঝুঁকি নিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট বি/এল আনলকের জন্য আবেদন করেন এবং পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুল্কায়ন সম্পন্ন করে পণ্য খালাস নেয়। এতে আরও বলা হয়, প্রতি মাসে এআইআর শাখায় ১০০টি নথি এবং শুল্কায়ন শাখায় এক হাজার নথি খোলা হয়। কোন নথিতে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা মনে রাখা মনুষ্য ব্রেনের পক্ষে অসম্ভব। তাছাড়া ৪টি নথিতে কমন কোনো কর্মকর্তার সই পাওয়া যায়নি। তাই আলোচ্য জালিয়াতির সঙ্গে কাস্টমসের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে দোষ চাপানো হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা কনটেইনার এআইআর শাখার লিখিত নির্দেশনা ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কিপডাউন (নামানো) করেছে এবং কিপডাউনের পর এআইআর শাখার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা হেফাজতের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট কমিশনারেটে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন পরিদর্শন করে তারা কী ধরনের পণ্য আদমানি ও বিক্রি করে তা জানাতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর



শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতির তান্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৩জন দেখেছেন

Image

হারুন অর রশিদ উপজেলা প্রতিনিধি : শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্য হাতির তান্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা। বর্তমানে ও বন্য হাতির তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। উপুর্যপুরি বন্য হাতির তান্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা।

জানা গেছে, সীমান্তেরপ্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চলে অবস্থান করছে বন্য হাতির দল।হাতিকবলিত ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে গারো,হাজং, কোচ,বানাই,হিন্দু মুসলমানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। ১৯৯৫ সালে এসব পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে শুরু হয় বন্যহাতির পদচারণা। হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে আশ্রয় নিচ্ছে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসছে লোকালয়ে।

ঘর-বাড়ী, ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলেছে। ক্ষেতের ফসলরক্ষার্থে পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে। ঢাকঢোল ও পটকা ফুটিয়ে,মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্ত যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে ততই হাতির দল তেড়ে আসছে লোকালয়ে। হাতির কবল থেকে রক্ষা পেতে ঘর-বাড়ী ফেলে রেখে অনেকেই চলে আসছেন লোকালয়ে। হাতি চলেযাবার পর বাড়ি ফিরছেন তারা। এতে যেনপাল্লা দিয়েই বাড়ছে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব। নির্ঘুম রাত কাটছে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের।

হাতিকবলিত এলাকা গুলোতে নেই ন্যাচারাল বন। একসময় ২০ হাজার একর বনের জমিতে শালগজারী বনছিল। ৯০ দশকের পর থেকে এসব বন পরিস্কার করে সৃজন করা হয় সামাজিক বন। শত শত একর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। গড়ে উঠেছে জনবসতি। এতেগড়ে উঠছে নাহাতির খাদ্য। বনের জমি বেদখল হওয়ায় সংকুচিত হয়ে পরেছে হাতির আবাস্থল। জানা গেছে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে গারো পাহাড়ে হাতির ২টি খাদ্য ভান্ডার গড়ে তুলার জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু ওই খাদ্য ভান্ডার আর আলোর মুখ দেখেনি।

নাওকুচি গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন সহ গ্রাম বাসীরা জানান,বন্যহাতির তান্ডবে পাহাড়ি এলাকার জমি গুলো চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। অনেকেই জীবিকার তাগিদে হাতির আক্রমনের ভয় উপেক্ষা করে চাষা বাদ করছেন।এছাড়া পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে নাই কোন কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা। ফলে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। গজনী গ্রামের অবিওসাংমা বলেন, পেটে খাবার না থাকলে ও প্রতিরাতেই হাতি তাড়াতে মশাল ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে ২ লিটার কেরোসিন তেল ঘরে রাখতে হয়। অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়না। হাতির আক্রমন শুরুর দিকে প্রশাসন বাজন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের মশাল ব্যবহারের জন্য কেরোসিন তেল বিতরন করা হতো। কিন্তু এখন আর তা করা হয় না।

হাতির কবল থেকে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের রক্ষার্থে বন মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করা কোনই কাজে আসছেনা। অকেজো হয়ে পড়ে আছে সোলার ফেন্সিং। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত শতাধিক। আর হাতির মৃত্যু হয়েছে ৩৩টি। ৩টি হাতি হত্যার বিষয়ে মামলা হয়েছে। এসব হাতির বেশির ভাগই মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক ফাঁদে, নয়তো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে।

হাতির সাথে যুদ্ধ করে বিপর্যস্থ গ্রাম বাসীদের খাদ্য সহায়তা ও হাতি তাড়াতে কেরোসিন তেল বিতরন ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি উঠেছে জন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাতি কবলিত এলাকায় বসবাস কারিদের সরিয়ে নেয়া ও খাদ্য ভান্ডার গড়ে তোলা হলে মানুষ- হাতি দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনা যাবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ.ন.ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, হাতির আক্রমনে নিহতদের পারিবার ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০২৪ সালপর্যন্ত ১ কোটি টাকা বিতরন করা হয়েছে।

শেরপুরের জেলাপ্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, সীমান্তের গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে জনগনকে সচেতনতার লক্ষে বনবিভাগের পক্ষ থেকে রেসপন্স টিম কাজ করছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় সোলারফ্যানসিং স্থাপনএবং অভয়ারণ্য গড়ে তোলাসহ টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ে হাতিসহ প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষায় চেষ্টা ও করা হচ্ছে।


আরও খবর



গভীর রাতে কম্বল নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মন্ত্রী আব্দুর রহমান এমপি

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image
মো: সজীব মোল্লা : ফরিদপুরের মধুখালীতে যে সময় মানুষ ঘুমায় কম্বল মুড়ি দিয়ে। আর সেই সময় গভীর রাতে কম্বল নিয়ে নির্বাচনী এলাকার ছিন্নমূল মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান এমপি। 

এই শীতে তিনি মধুখালী,বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এতিমখানাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন শীতবস্ত্র (কম্বল) নিয়ে।

৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার মেছড়দিয়াসহ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের (গুচ্ছগ্রাম) শতাধিক অসহায় ছিন্নমুল মানুষকে নিজহাতে কম্বল তুলে দেন মন্ত্রী আব্দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিক, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.সুদেব কুমার দাস, মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মিরাজ হোসেন,উপজেলা আওয়াামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক বকু প্রমুখ। কম্বল পাওয়া মেছড়দিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানান, দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কমে গেলেও রাতে বাড়ে শীতের তীব্রতা। শীতের শেষ মুহূর্তে শীতের বেগ রাতে একটু বেশি হয়। এই শীতের রাতে মন্ত্রী সাহেবের দেওয়া কম্বল আমাদের অনেকটাই উপকারে আসবে,ধন্যবাদ তাকে। দীর্ঘায়ু কামনা করি। এক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ফরিদপুর-১ আসনে আমার নির্বাচনী জনপদের তিন উপজেলার প্রায় ১০/১২ হাজার অসহায় মানুষকে শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিভিন্ন মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।এখনো বিতরণ চলমান রয়েছে।আজকে বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদীতে এসেছিলাম একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে ভাবলাম নিজের হাতে ছিন্নমূল মানুষের হাতে কিছু কম্বল দিয়ে যাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।

আরও খবর



বাড়ি ফেরার পথে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৫জন দেখেছেন

Image

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম মুরাদ হোসেন। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুরাদ নওয়াপাড়ার সরদারপাড়ার শাহাবুদ্দিন ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিকুল ইসলাম।

স্থানীয়রা ও পুলিশ জানিয়েছে, রাতে নওয়াপাড়া বাজার থেকে তরফদার পাড়ার বাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুরাদ। পথে কবরস্থানের কাছে তার ওপর হামলা হয়। ছুরিকাঘাতে তিনি মারাত্মক জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তাকে নেওয়া হয় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কে বা কারা মুরাদকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আকিকুল ইসলাম।


আরও খবর