Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা: জবি উপাচার্য

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬৩জন দেখেছেন

Image

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, এই যে উদীচীর লক্ষ্য এই লক্ষ্যটা সামনে রেখে ৬৮র পর থেকে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা গিয়েছিল তাদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততা ছিল।

মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শীতকল্প ১৪৩০ শিরোনামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজনে ভাস্কর্য চত্বরে 'বন্ধু এখানে শুকানো পাতার আগুন জ্বালো' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

উপাচার্য বলেন, উদীচী শিল্পীরা অনেকে আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গান গেয়েছেন, আবৃত্তি করেছেন, নাটক করেছেন, পর্যালোচনা দিয়েছেন অর্থাৎ এই যে একটা প্লাটফর্ম এই প্লাটফর্মটা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা।

উপাচার্য আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা, নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা, বৈষম্যহীন সমাজ এবং এই যে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র এ রাষ্ট্রটি কেবলমাত্র একটি জাতিসত্তার ধর্মাবলম্বী মানুষের নয়, বাংলাদেশের  মাটির মধ্যে কিন্তু একটা বহুমাত্রিকতা আছে। সেই বহুমাত্রিকতা হচ্ছে আমাদের এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ বসবাস করে এবং সর্বোপরি নারী বা পুরুষ হিসেবে না দেখে আমরা তাকে মানুষ হিসেবে দেখব। 

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের যে পবিত্র সংবিধান আছে সেই সংবিধানে জাতির পিতা চারটি পিলারের কথা বলে গেছেন। যা হচ্ছে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র। তাহলে এখানে ওদের কাজটা কোথায়? উদীচীর কাজটা হচ্ছে এখানে গণতন্ত্র চর্চা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া। 

উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, আজকে যেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আছে একসময় এখানে ব্রাহ্মসমাজ তৈরি হয় তারপরে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকে বের হলে আমরা দেখতে পাই চার্চ আর একটু গেলে মন্দির। আমাদের যে সংস্কৃতি চারপাশে আছে তা দেখে আমি বিশ্বাস করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মন কখনো সংকীর্ণ হতে পারেনা। পুরান ঢাকায় ২২০০ পুরনো বাড়ি আছে যেটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলেছে আমাকে। তারা আমাকে বলেছেন, ' যে আপা আপনি প্রত্নতত্ত্ব  বিভাগ খুলেন এখানে' আমি সেটাও চিন্তা করেছি।

উপাচার্য সাদেকা হালিম আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে। এজন্য উদীচীকে এগিয়ে যেতে হবে। উদীচী গান করবে তবে ছোট জায়গায় নয়, তারা চার্চে গিয়ে গান করবে, ধুপখোলা মাঠে, ট্রাকের উপরে, খোলা রাস্তায় গান করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্র্যান্ডিং করতে চাই সে ব্র্যান্ডিংকরবে আমার শিক্ষার্থীরা। আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা একটি অসম্প্রদায়িক সমাজ সংস্কৃতি তৈরি করবে যেখানে নারী পুরুষের সমান অধিকার থাকবে। আমি প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি সুসংবাদ শুনতে চাই অন্তত মাসে একবার হলেও হোক সেটা।  

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, এই উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যাত্রা অনেক কঠিন। তারা ১৯৯০ সালে বোমা হামলা শিকার হয়। আমরা জানি সেই মামলা আজও নিষ্পত্তি হয়নি। সেখানে প্রায় ১০ জন কর্মী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে। বারবারই উদীচীর উপর আক্রমণ আসে। কারা আক্রমণ করে সে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ তাদের থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে এই বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তান নয়। সেটা আমরা ৫২ বছর আগে ফয়সালা করেছি। সেই ফয়সালা শক্তি নিয়ে কিন্তু আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

অধ্যাপক সাদেকা হালিম আরও বলেন, 'বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিশ্বের মানচিত্রের মধ্যে এটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে তার আগে থেকেই আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। এই অগ্রযাত্রার হাতিয়ার হতে হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। প্রজন্মকে তৈরি হতে হবে এমন ভাবে যেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমি গান গাইতে, নাচতে, আবৃতি করতে পারি। পাশাপাশি আমাদের ভালো ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও সামাজিক বিজ্ঞানী হতে হবে। চারুকলার একজন শিক্ষার্থী হয়ে আলো ছড়িয়ে দিতে হবে আমি যা কিছু শিখেছি চারপাশে। আমি কিন্তু সেটাই চাই। আমি এই জন্য এখানে এসেছি, তোমাদেরকে নিয়ে যেতে।'

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম বলেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সারাবছর তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলমান রাখে। দেশীয় যে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীন সমাজের ইতিহাস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে উদীচীর শিল্পীগোষ্ঠীরা কাজ করে। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে উদীচী সুদৃঢ় মনোভাব জাগ্রত করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর

চবি ছাত্রলীগে ফের উত্তেজনা

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




অপহরণ মামলায় জেল, ভালোবাসা দিবসে আদালতে বিয়ে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | ২৬জন দেখেছেন

Image

প্রথমে প্রেম, তারপর পালিয়ে বিয়ে। যার প্রেক্ষিতে কনের পিতা বরের নামে করেন অপহরণ মামলা। সেই মামলায় কারাগারে যেতে হয় সেই যুবককে। সেখানে কেটে যায় তার দুই মাসের বেশি সময়। 

অবশেষে মুক্তি মিলে তবে...ভালোবাসা দিবসে আদালতে বিয়ে হলো বর ও কনের। ঝিনাইদহের আদালত চত্বরের ক্যান্টিনে আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে মহেশপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী জেসমিন খাতুন আর গোপালপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেনের। এ সময় বর পুলিশের হেফাজতে ছিলেন আর বাইরে অপেক্ষা করছিল কনের পরিবার।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের আদালত চত্ত্বরে। বিয়ের পর সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। জেসমিনকে অপহরণের দায়ে জুবায়েরের জামিন আবেদনে আদালতে এমন রায় দিয়েছেন।

আদালত জানায়, মহেশপুর উপজেলার জুকা গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে ওই গ্রামের স্কুলছাত্রী জেসমিন খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পার্শ্ববর্তী গোপালপুর গ্রামের যুবক জুবায়ের হোসেনের। কয়েক মাস তাদের মোবাইলে প্রেম চলে। বিষয়টি জানাজানি হলে তদের পরিবারের লোকেরা মেনে নেয় না। ফলে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জেসমিনকে পালিয়ে বিয়ে করেন জুবায়ের। এ ঘটনায় ২৪ ডিসেম্বর জেসমিনের বাবা বাদি হয়ে মহেশপুর থানায় জুবায়েরসহ আরও ৪ জনের নামে অপহরণ মামলা করলে গ্রেপ্তার হন জুবায়ের।

পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবার মীমাংসা করে বিয়েতে রাজি হয়ে বুধবার আদালতে জুবায়েরের জামিন আবেদন করেন। ঝিনাইদহের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদৌলা শর্ত দেন ‘৫ লাখ টাকা কাবিনে জেসমিনকে বিয়ে করলে জুবায়ের জামিন দেওয়া হবে’। এই শর্তে রাজি হয়ে আদালতে বিয়ে হয় জুবায়ের ও জেসমিনের।

বর জুবায়ের হোসেন বলেন, ভালোবাসা দিবসে আমার প্রিয় মানুষটাকে পেয়েছি এতেই আমি খুব খুশি। ২ মাস জেল খাটার পর তাকে পেলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. ইশারত হোসেন খোকন বলেন, আদালতের নির্দেশে ৫ লাখ টাকা কাবিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে।


আরও খবর



সীমানা ছাড়ানো জয়ার জৌলুস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৫জন দেখেছেন

Image

জয়া আহসান, ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা দিয়ে প্রথম পা রাখেন বড়পর্দায়। আলোচিত হয় প্রথম সিনেমাটি দিয়েই। দর্শকের নজরে কাড়েন সেই প্রথম সিনেমাই। এরপর তো শুধুই নতুন নতুন গল্প তার। হয়ে গেলেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী। দুই দেশের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করে এমন বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছেন জয়া যা তাকে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে। সেই সূত্রে কাজ করেছেন বলিউডে। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফেরদৌস আহমেদ নারীদের মধ্যে তেমন জয়া আহসান। বাংলাদেশ থেকে এ দুজন অভিনয় শিল্পীই একই সঙ্গে দুই বাংলায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন। জয়া চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে প্রতিটি কাজে পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের ভরসার প্রতিদান দিয়েছেন। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন দুই বাংলার নির্মাতারা।

এদিকে ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত জয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ফেরেশতে’ প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমাটির কলাকুশলীরা ভারতের গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ অভ্যর্থনায় ঋদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে ইরানের চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমা ‘ফেরশতে’ প্রতিযোগিতা করছে। এই সিনেমাটি ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবেও উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল।

আর এ দিকে, এই ভালোবাসার মাসেই আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে জয়া অভিনীত সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’। ওই সিনেমার প্রয়োজক শাহরিয়ার শাকিল জানান, সাত বছর পর জটিলতা কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে ‘পেয়ারর সুবাস’।

শোবিজে লম্বা ইনিংস খেলার প্রত্যয়ে মাঠে নামেন জয়া আহসান। বয়স পঞ্চাশের কোঠায় এলেও বর্তমানে দুই বাংলার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ও নন্দিত অভিনেত্রীতে পরিণত এই তারকা। ধারাবাহিক সাফল্য আর নব নব আনন্দে খবরে ভাসছেন। শুধু একের পর এক কাজ করা নয়, প্রতিটি সিনেমায় বক্স অফিসের সাফল্যকে অনেকটাই সুনিশ্চিত করেছেন। ঢাকা থেকে গিয়ে কলকাতার সিনেমায় এমন ঈর্ষণীয় জায়গা করে নেয়া অভিনেত্রী জয়া। যার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে তো বটে, বরং আরও প্রবল হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি টলিউড সিনেমায় বাণিজ্যিক সাফল্য এবং প্রশংসা উভয়ই নিজের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির ঝুলিতে ভরেছেন। বাণিজ্যিক ধারার বাহিরে এসে অভিনয় মেধায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় সফল জয়া। অবশ্য বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও অনেকটাই ডিজাইনার অ্যাক্টর নির্ভর। সেই চাহিদা এবং প্রত্যাশার ক্ষেত্রে জয়াও যে পরিণত মুখ, সঙ্গে গ্লামার আর ট্যালেন্টের প্যাকেজ। নায়িকা চরিত্রের গড়পড়তা ধারা থেকে বেরিয়ে চরিত্রনির্ভর অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত জয়া। চরিত্রের খাতিরে তাই বারবার জয়াকেই বেছে নিচ্ছেন পরিচালকরা। জয়া বলেন, আমি চাইলে সুন্দর সেজে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বহু সিনেমা করতে পারতাম। করিনি। তার জন্য টাকার লোভ, খ্যাতির লোভ সংবরণ করেছি। চেয়েছিলাম ‘আনকনভেনশনাল’ কিছু করতে।

দেশ-বিদেশে নানা স্বীকৃতি ছাপিয়ে মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পঞ্চমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। সিনেমায় সার্কাসের বিউটি চরিত্রে তার বাবা হত্যার প্রতিশোধের অদম্য লড়াই চালিয়েছেন। পুরস্কারটি জয়া উৎসর্গ করেছেন, যাত্রাশিল্পীদের প্রতিটি মানুষের প্রতি। নিজ দেশের পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও একাধিক সিনেমায় নিজেকে শীর্ষ স্থানে রেখেছেন তিনি। তার সঙ্গে টেক্কা দিয়েও পিছিয়ে ছিল অনেকেই। বিশেষ করে ওপার বাংলার মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, পাওলী ধাম, শ্রাবন্তী চট্টপ্যাধায়দের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের জয়াই ছিলেন সর্বাধিক আলোচনায়। কারণ ওপার বাংলার একাধিক নায়িকার সিনেমা মুক্তি পেলেও একই সময়ে মুক্তি পাওয়া জয়ার সিনেমাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া একাধিক সিনেমায় সাফল্যের সূত্রে বলিউডেও কাজ করেছেন তিনি। সেখানেও তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে শীর্ষ নির্মাতা এবং প্রযোজকরা জয়াকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন।

অভিনেত্রীদের মধ্যে জয়ার শীর্ষস্থান দখলের সাফল্য ২০১৯ সাল থেকে। ওই বছর মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯ মার্চ মুক্তি পায় জয়া অভিনীত সিনেমা ‘অলাতচক্র’। আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল লক্ষ্যণীয়। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে হাবিবুর রহমান পরিচালিত ‘অলাতচক্র’ বাংলা ভাষায় প্রথম থ্রিডি চলচ্চিত্র। উপন্যাসে লেখক আহমদ ছফা দানিয়েলের জবানিতে নিজেকেই তুলে ধরেছেন। নিজের প্রেমিকারূপে সৃষ্টি করেছেন তায়েবা চরিত্রটি। যে চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হোন জয়া আহসান। অবশ্য এর আগে টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘রবিবার’ সিনেমায় অভিন করেন জয়া। সিনেমাটি দর্শক-সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি ২০১৯ সালে রিলিজ হয় ‘দেবী’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’ নামে আরও তিনটি সিনেমা। তিনটিই সুপারহিট। এরপর কোভিড মহামারি ধাক্কা সামলে আরও একাধিক কাজের মাধ্যমে নিজের ধারাবাহিকতা ঠিকই বজায় রাখেন জয়া। তবে চলতি বছরটি জয়ার জন্য সুবর্ণ সময়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় চারটি নতুন সিনেমা। এর মধ্যে সৃজিত মুখার্জি নির্মিত জয়া অভিনীত ‘দশম অবতার’ ছিল মূল আলোচনায়। এ সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া। আর এই সিনেমাটিই দর্শক আগ্রহের মূলে ছিল। ব্যবসার দিক দিয়েও ছিল এগিয়ে। এ সিনেমায় দর্শকের সাড়ায় আপ্লুত জয়া আহসান বলেন, ‘দশম অবতার’কে এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। গত বছরের ২ জুন পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় জয়া অভিনীত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’। কৌশিক গাঙ্গুলি নির্মিত সিনেমাটি কয়েক মাস ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলে। এমনকি চলতি বছরের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবে সুপারহিট তকমা পায়। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ এবং ‘দশম অবতার’ সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে ফের সাফল্য হাজির জয়ার দুয়ারে।


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঈধিকার পর এবার মিমি

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




যত দিন আল্লাহর নাম উচ্চারিত হবে, তত দিন দুনিয়া টিকে থাকবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯৫জন দেখেছেন

Image

মহান আল্লাহ মানুষকে যত নিয়ামত দিয়েছেন তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ঈমান। কারণ বান্দা যা-ই করুক না কেন, ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে যেতে পারলে কোনো একসময় সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৪)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না; বরং আল্লাহই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৮)

উভয় জগতে ফেরেশতারা যাদের বন্ধু : কোনো অপরিচিত জায়গায় বন্ধুবান্ধব থাকলে মানুষ মনে জোর পায়। সম্ভাব্য সহযোগিতার আশা করে। সহযোগিতা পেয়েও থাকে। মহান আল্লাহ উভয় জগতে ফেরেশতাদের ঈমানদারদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা তোমাদের বন্ধু দুনিয়া ও আখিরাতে...।’ (সুরা হা-মিম আসসাজদা, আয়াত : ৩১)

যাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা : মহান আল্লাহ ঈমানদারদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের জন্য রয়েছে সঠিক পথপ্রাপ্ত হওয়ার ঘোষণা। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানে কোনো ত্রুটি মিশ্রিত করেনি, তাদেরই জন্য আছে নিরাপত্তা আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৮২)

যারা সৃষ্টির সেরা : যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে মহান আল্লাহ তাদের সৃষ্টির সেরা ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, নিশ্চয় তারাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে উত্কৃষ্ট।’ (সুরা বায়্যিনাহ, আয়াত : ৭)

যাদের সবাই ভালোবাসতে বাধ্য : সবাই চায় সবাই তাকে ভালোবাসুক। মহান আল্লাহ বলেন, তিনি ঈমানদার সৎ কর্মপরায়ণদের প্রতি সবার ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে দয়াময় অবশ্যই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৯৬)

যেভাবে ঈমান বাড়ে : মহান আল্লাহর আনুগত্য করলে ঈমান ও মর্যাদা বাড়ে, নাফরমানি করলে কমে। নাফরমানি দ্বারা অন্তরে জং ধরে যায়। তখন ভালো কাজ আর ভালো লাগে না। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, “মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে তাওবা করলে, পাপ কাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরো গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা, যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন (অনুবাদ) : ‘কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৪)

দুনিয়া তত দিন টিকে থাকবে : যত দিন দুনিয়াতে ঈমানদার থাকবে এবং তাঁদের দ্বারা আল্লাহর নাম উচ্চারিত হতে থাকবে তত দিন দুনিয়া টিকে থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ বলার মতো লোক থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭০)

আল্লাহ তাআলা সবাইকে প্রকৃত ঈমাদানদার ও সৎ কর্মপরায়ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




চালের বস্তায় দাম-জাতসহ ৬ তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৭জন দেখেছেন

Image

চালের দাম সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই চাল বাজারজাত নিশ্চিত করতে আগামী ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ) থেকে বস্তার ওপর ছয়টি তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

বস্তায় উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান বা চালের জাত উল্লেখ করার নির্দেশনা দিয়ে সরকারি বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পরিপত্র জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

রাইস মিল (অটোমেটিক ও হাস্কিং) থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহকৃত চালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং ‘উৎপাদন ও সরবরাহ’ মূল্য অবহিতকরণ সংক্রান্ত পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসমাইল হোসেন। এতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে। 

চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা অকস্মাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পছন্দমত জাতের ধান, চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজার মূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে, ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

১. চালের উৎপাদনকারী মিলাররা গুদাম হতে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান/চালের জাত উল্লেখ করতে হবে। ধানের জাতের নাম, প্রস্তুতকারক, ঠিকানা (উপজেলা ও জেলা), নিট ওজন, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্যের এই তথ্যগুলো ছক মোতাবেক লেখা থাকবে।

২. বস্তার ওপর উল্লিখিত তথ্যাদি কালিতে হাত দিয়ে লেখা যাবে না।

৩. চাল উৎপাদনকারী সকল মিল মালিক (অটো/হাস্কিং) কর্তৃক সরবরাহকৃত সকল প্রকার চালের বস্তা/প্যাকেটের (৫০/২৫/১০/৫/২/১ কেজি ইত্যাদি) ওপর উল্লিখিত তথ্যাদি মুদ্রিত করতে হবে।

৪. কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মিল গেট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে।

৫. এ পরিপত্রের আলোকে সকল জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার/আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক/জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক/ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। খাদ্য পরিদর্শকগণ পরিদর্শনকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’ এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

৬. আগামী ১৪ এপ্রিল (০১ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ) তারিখ থেকে এ পরিপত্রের নির্দেশ আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করতে হবে।


আরও খবর



তিনটির বেশি উৎসাহ বোনাস পাবেন না সরকারি ব্যাংকাররা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৩৫জন দেখেছেন

Image

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক কর্মীদের ‘উৎসাহ বোনাস’ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছে সরকার। ফলে এখন সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ চাইলেও তিনটির বেশি বোনাস দিতে পারবে না। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভা ‘উৎসাহ বোনাস’ নামে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। 

এতে বলা হয়েছে, ‘উৎসাহ বোনাস’ কোনো অধিকার নয়, এটি আর্থিক সুবিধা যা পর্ষদের বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া হয়। এ বোনাস দেওয়ার ফলে সরাসরি নগদ অর্থের ওপর চাপ পড়ে এবং হ্রাস পায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের আর্থিক সুবিধা দিতে ২০১৪ সালে খসড়া গাইডলাইন করা হয়। ওয়ার্কিং ফান্ডের ওপর নিট মুনাফার হারের ভিত্তিতে বোনাস দেওয়া সুপারিশ ছিল কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রভিশন সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে পরবর্তী প্রদর্শন করছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয় করলে নিট মুনাফার পরিবর্তে লোকসান হতো বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। 

মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো সরকারের বিভিন্ন খাতের স্বল্প সুদের ঋণ দেয়, বিনা মূল্যে সরকারের বিভিন্ন সেবা প্রদান করে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেয়। ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের লক্ষ্যে উৎসাহ বোনাস বিষয়ে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়ন হারের ওপর ২০ শতাংশ এবং পরিচালন মুনাফা হারের ওপর ৮০ শতাংশ স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই স্কোরের ভিত্তিতে পরিচালন মুনাফা থেকে উৎসাহ বোনাস বণ্টন হবে। ফলে এখন থেকে কোনো ব্যাংক ৫০-এর নিচে স্কোর পেলে বোনাস দিতে পারবে না। আর ৫০ থেকে ৬০ স্কোর পেলে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ বোনাস পাবে, ৬১ থেকে ৭০ হলে দেড় মাস, ৭১ থেকে ৮০ হলে দুই মাস, ৮১ থেকে ৯০ হলে আড়াই মাস এবং ৯০-এর বেশি স্কোর হলে তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব বোনাস পাবেন সরকারি ব্যাংকাররা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এতদিন নিট মুনাফা বিবেচনা করে নিজ নিজ ব্যাংকের পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিত উৎসাহ বোনাস কত হবে। এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা বছরে তিন থেকে চারটি করে বোনাস পেত। নতুন নির্দেশনার ফলে তিনটির বেশি বোনাস দিতে পারবে না সরকারি ব্যাংকগুলো। এ গাইডলাইন বাস্তবায়ন ও স্কোর নির্ধারণের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যদি কেউ এ গাইডলাইনের বাইরে উৎসাহ বোনাস দিতে চায় তাহলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সম্মতি নিতে হবে। ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় থেকে মোট পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে পরিচালন মুনাফা হিসাব করতে বলা হয়েছে গাইডলাইনে।


আরও খবর