Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে চাই প্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কবি কামাল চৌধুরী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র ভিশন বাস্তবায়ন করতে আমাদের এমন একটি জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে, যারা প্রযুক্তিতে দক্ষ। একইসঙ্গে যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেখিয়েছেন, সেই স্বপ্নের পরিপূরকভাবে চলমান বিশ্বের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের গতিকে অভিযোজিত করবে-এমন একটি তরুণ জনগোষ্ঠী যারা আগামী দিনের কুশিলব হিসেবে আবির্ভূত হবে। এজন্য এবারের সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। তাই দেশ ও প্রবাসের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদার স্বাগত বক্তব্যের পর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‌‘গত ৭ জানুয়ারি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে গঠিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে গভীরভাবে, নিবিড়ভাবে কাজ করছি। ইতোমধ্যেই দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি দিয়েছেন এবং সেখানে সমস্ত বিষয়ে অর্থাৎ যেসব সেক্টর রয়েছে, সেগুলোতে কাজ করার জন্য তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’ 

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নয়া সরকারের সাথে বাইডেন প্রশাসনের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় ছিল, এখন আর সেই সংশয়ের কিছু নেই। যারা এদেশের (যুক্তরাষ্ট্র) সিটিজেনশিপ নিলেও অন্তরে বাংলাদেশ ধারণ করেন। তাদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে এদেশের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই।’ 

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তৌফিক ইসলাম শাতিল, কবি বদিউজ্জামান নাসিম, নিউইয়র্কস্থ মুক্তধারার প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহা এবং সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ বক্তব্য রাখেন। কবি কামাল নাসেরের জীবনী উপস্থাপন করেন লুৎফুন্নাহার লতা। বস্টনস্থ থিঙ্কট্যাংক ‘ইন্টরন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (আইএসডিআই)’র প্রধান নির্বাহী ইকবাল ইউসুফসহ কম্যুনিটির সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারীরা এতে ছিলেন।


আরও খবর

ভাষা শহীদদের প্রতি মালয়েশিয়ায় শ্রদ্ধা

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সীমানা ছাড়ানো জয়ার জৌলুস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৫জন দেখেছেন

Image

জয়া আহসান, ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা দিয়ে প্রথম পা রাখেন বড়পর্দায়। আলোচিত হয় প্রথম সিনেমাটি দিয়েই। দর্শকের নজরে কাড়েন সেই প্রথম সিনেমাই। এরপর তো শুধুই নতুন নতুন গল্প তার। হয়ে গেলেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী। দুই দেশের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করে এমন বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছেন জয়া যা তাকে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে। সেই সূত্রে কাজ করেছেন বলিউডে। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফেরদৌস আহমেদ নারীদের মধ্যে তেমন জয়া আহসান। বাংলাদেশ থেকে এ দুজন অভিনয় শিল্পীই একই সঙ্গে দুই বাংলায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন। জয়া চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে প্রতিটি কাজে পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের ভরসার প্রতিদান দিয়েছেন। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন দুই বাংলার নির্মাতারা।

এদিকে ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত জয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ফেরেশতে’ প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমাটির কলাকুশলীরা ভারতের গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ অভ্যর্থনায় ঋদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে ইরানের চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমা ‘ফেরশতে’ প্রতিযোগিতা করছে। এই সিনেমাটি ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবেও উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল।

আর এ দিকে, এই ভালোবাসার মাসেই আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে জয়া অভিনীত সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’। ওই সিনেমার প্রয়োজক শাহরিয়ার শাকিল জানান, সাত বছর পর জটিলতা কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে ‘পেয়ারর সুবাস’।

শোবিজে লম্বা ইনিংস খেলার প্রত্যয়ে মাঠে নামেন জয়া আহসান। বয়স পঞ্চাশের কোঠায় এলেও বর্তমানে দুই বাংলার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ও নন্দিত অভিনেত্রীতে পরিণত এই তারকা। ধারাবাহিক সাফল্য আর নব নব আনন্দে খবরে ভাসছেন। শুধু একের পর এক কাজ করা নয়, প্রতিটি সিনেমায় বক্স অফিসের সাফল্যকে অনেকটাই সুনিশ্চিত করেছেন। ঢাকা থেকে গিয়ে কলকাতার সিনেমায় এমন ঈর্ষণীয় জায়গা করে নেয়া অভিনেত্রী জয়া। যার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে তো বটে, বরং আরও প্রবল হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি টলিউড সিনেমায় বাণিজ্যিক সাফল্য এবং প্রশংসা উভয়ই নিজের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির ঝুলিতে ভরেছেন। বাণিজ্যিক ধারার বাহিরে এসে অভিনয় মেধায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় সফল জয়া। অবশ্য বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও অনেকটাই ডিজাইনার অ্যাক্টর নির্ভর। সেই চাহিদা এবং প্রত্যাশার ক্ষেত্রে জয়াও যে পরিণত মুখ, সঙ্গে গ্লামার আর ট্যালেন্টের প্যাকেজ। নায়িকা চরিত্রের গড়পড়তা ধারা থেকে বেরিয়ে চরিত্রনির্ভর অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত জয়া। চরিত্রের খাতিরে তাই বারবার জয়াকেই বেছে নিচ্ছেন পরিচালকরা। জয়া বলেন, আমি চাইলে সুন্দর সেজে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বহু সিনেমা করতে পারতাম। করিনি। তার জন্য টাকার লোভ, খ্যাতির লোভ সংবরণ করেছি। চেয়েছিলাম ‘আনকনভেনশনাল’ কিছু করতে।

দেশ-বিদেশে নানা স্বীকৃতি ছাপিয়ে মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পঞ্চমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। সিনেমায় সার্কাসের বিউটি চরিত্রে তার বাবা হত্যার প্রতিশোধের অদম্য লড়াই চালিয়েছেন। পুরস্কারটি জয়া উৎসর্গ করেছেন, যাত্রাশিল্পীদের প্রতিটি মানুষের প্রতি। নিজ দেশের পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও একাধিক সিনেমায় নিজেকে শীর্ষ স্থানে রেখেছেন তিনি। তার সঙ্গে টেক্কা দিয়েও পিছিয়ে ছিল অনেকেই। বিশেষ করে ওপার বাংলার মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, পাওলী ধাম, শ্রাবন্তী চট্টপ্যাধায়দের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের জয়াই ছিলেন সর্বাধিক আলোচনায়। কারণ ওপার বাংলার একাধিক নায়িকার সিনেমা মুক্তি পেলেও একই সময়ে মুক্তি পাওয়া জয়ার সিনেমাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া একাধিক সিনেমায় সাফল্যের সূত্রে বলিউডেও কাজ করেছেন তিনি। সেখানেও তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে শীর্ষ নির্মাতা এবং প্রযোজকরা জয়াকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন।

অভিনেত্রীদের মধ্যে জয়ার শীর্ষস্থান দখলের সাফল্য ২০১৯ সাল থেকে। ওই বছর মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯ মার্চ মুক্তি পায় জয়া অভিনীত সিনেমা ‘অলাতচক্র’। আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল লক্ষ্যণীয়। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে হাবিবুর রহমান পরিচালিত ‘অলাতচক্র’ বাংলা ভাষায় প্রথম থ্রিডি চলচ্চিত্র। উপন্যাসে লেখক আহমদ ছফা দানিয়েলের জবানিতে নিজেকেই তুলে ধরেছেন। নিজের প্রেমিকারূপে সৃষ্টি করেছেন তায়েবা চরিত্রটি। যে চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হোন জয়া আহসান। অবশ্য এর আগে টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘রবিবার’ সিনেমায় অভিন করেন জয়া। সিনেমাটি দর্শক-সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি ২০১৯ সালে রিলিজ হয় ‘দেবী’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’ নামে আরও তিনটি সিনেমা। তিনটিই সুপারহিট। এরপর কোভিড মহামারি ধাক্কা সামলে আরও একাধিক কাজের মাধ্যমে নিজের ধারাবাহিকতা ঠিকই বজায় রাখেন জয়া। তবে চলতি বছরটি জয়ার জন্য সুবর্ণ সময়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় চারটি নতুন সিনেমা। এর মধ্যে সৃজিত মুখার্জি নির্মিত জয়া অভিনীত ‘দশম অবতার’ ছিল মূল আলোচনায়। এ সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া। আর এই সিনেমাটিই দর্শক আগ্রহের মূলে ছিল। ব্যবসার দিক দিয়েও ছিল এগিয়ে। এ সিনেমায় দর্শকের সাড়ায় আপ্লুত জয়া আহসান বলেন, ‘দশম অবতার’কে এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। গত বছরের ২ জুন পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় জয়া অভিনীত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’। কৌশিক গাঙ্গুলি নির্মিত সিনেমাটি কয়েক মাস ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলে। এমনকি চলতি বছরের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবে সুপারহিট তকমা পায়। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ এবং ‘দশম অবতার’ সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে ফের সাফল্য হাজির জয়ার দুয়ারে।


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঈধিকার পর এবার মিমি

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি শনাক্তের পরও খালাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬০জন দেখেছেন

Image

চট্টগ্রাম কাস্টমসে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। আমদানি পণ্যের বিবরণে তুচ্ছ ভুল বা ওজনে সামান্য হেরফেরের কারণে ক্ষুদ্র আমদানিকারক ও উৎপাদকদের ২০০ শতাংশ জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। অথচ শনাক্তের পরও আমদানি নিষিদ্ধ ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লোমেট) খালাসের অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ পণ্য খালাসে জড়িতদের শনাক্তে গঠিত তদন্ত কমিটি কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি! পুরো ঘটনাকে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের দুর্বলতা এবং মানুষের ‘মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তাকে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২০২২ সালে ঢাকার মিটফোর্ডের একটি বাণিজ্যিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২০ হাজার ১৬০ কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার (চুনাপাথর) আমদানি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের এআইআর (গোয়েন্দা) শাখা পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখতে পায়, চালানে ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি এবং ৬ হাজার কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার রয়েছে। এ ঘটনায় এআইআর শাখা থেকে আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও জেটি সরকারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই পণ্য পরে ছাড় করা হয়।

ঘনচিনি মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমদানি নীতিতে নিষিদ্ধ। ২০০৬ সালে ঘনচিনির ব্যবহার ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। ঘনচিনি চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি; দামও কম, স্বাদ প্রায় চিনির মতোই। ঘনচিনির ব্যবহার ক্যানসার ঝুঁকি বাড়ায়। মানব হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় একে মাইয়োকার্ডিয়াল ক্যালাসিফিকেশন বলা হয়। এটি শুধু হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির ক্ষেত্রেই ঘটে তা নয়; বরং মূত্রথলিসহ দেহের অন্যান্য পেশিতে এ ঘটনা ঘটে। সেক্স ক্রোমোজমের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক সন্তানের জন্ম হতে পারে। ঘনচিনির ব্যবহারে পুরুষের অণ্ডকোষের ক্ষতি হয়, টেস্টস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। তাতে পুরুষত্বের হানি ঘটতে পারে। যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। তার ফলে সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা সৃষ্টি হতে পারে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ১২টি প্যাকেটজাত ও ৪টি খোলা চিনির নমুনা সিঙ্গাপুরের প্যাসিফিক ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে তাতে সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার দাবি করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য চালান বন্দরে পৌঁছানোর দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) জমা না দেওয়ায় সন্দেহবশত এআইআর চালানটি লক করে। কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা উত্তোলন করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ কারণে এআইআর বিল অব ল্যাডিং (বি/এল) লক করে এবং ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর টার্মিনাল ম্যানেজারকে কনটেইনারটিকে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখতে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২৭ নভেম্বর কমিশনার ফাইলে মামলার সিদ্ধান্ত দেন।

যেভাবে পণ্য খালাস নেওয়া হয় : ফৌজদারি মামলার সুপারিশের প্রায় ৩ মাস পর কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ও পরামর্শে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট কৌশলে পণ্য খালাস নিতে এআইআর শাখায় ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বি/এল আনলক করার আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআইআর শাখা নতুন আরেকটি ফাইল খুলে বি/এল আনলকের পর নিয়ম অনুযায়ী বি/ই নোটিং করে এবং পরে সেই বি/ই লক করা হয়। ২১ জানুয়ারি কায়িক পরীক্ষার জন্য নমুনা উত্তোলন করা হয়। স্যাম্পল চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে রাসায়নিক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়, অর্থাৎ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার পাওয়া যায়। এমনকি পরে শুল্ক গোয়েন্দার কায়িক পরীক্ষায়ও ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়। কায়িক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারিতে পণ্য খালাস দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য খালাসে ৪টি নথি খোলা হয়। এআইআর শাখার একটি নথি খোলা হয় বি/এল নম্বর দিয়ে। ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার পর বি/এল লক করে সেই নথি এআইআর শাখা থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শুল্কায়ন শাখায় পাঠানো হয়। প্রায় এক মাস পর আরেকটি নথি খোলা হয়, আমদানিকারকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বি/এল আনলকের জন্য। এ নথির মাধ্যমে বি/এল আনলকের পর বি/ই নোটিং করে আবারও লক করা হয়। পরে শুল্কায়ন শাখার কায়িক পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে মালামাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। যে রিপোর্টে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পণ্য খালাস নেওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩১ মে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এআইআর শাখা তৎকালীন উপকমিশনার সাইফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে সিএন্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স বাতিল, আমদানিকারককে নজরদারিতে রাখা এবং এআইআর শাখার তৎকালীন শাখা সহকারীকে বরখাস্তের সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাখা সহকারীকে প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করা হলেও পরে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ১৩ জুলাই উপকমিশনার এইচএম কবিরকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল অব এন্ট্রির (বি/ই) মতো বিল অব ল্যাডিং (বি/এল)-এর কনটেইনার কায়িক পরীক্ষার পর অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে ইনপুট দেওয়ার মতো ইন্সপেকশন অ্যাক্টের ব্যবস্থা নেই। ফলে বি/এল লকের পর কায়িক পরীক্ষার বিষয়টি অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে পাওয়া যায়নি। এটা অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বড় দুর্বলতা। এ দুর্বলতার সুযোগে ঝুঁকি নিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট বি/এল আনলকের জন্য আবেদন করেন এবং পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুল্কায়ন সম্পন্ন করে পণ্য খালাস নেয়। এতে আরও বলা হয়, প্রতি মাসে এআইআর শাখায় ১০০টি নথি এবং শুল্কায়ন শাখায় এক হাজার নথি খোলা হয়। কোন নথিতে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা মনে রাখা মনুষ্য ব্রেনের পক্ষে অসম্ভব। তাছাড়া ৪টি নথিতে কমন কোনো কর্মকর্তার সই পাওয়া যায়নি। তাই আলোচ্য জালিয়াতির সঙ্গে কাস্টমসের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে দোষ চাপানো হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা কনটেইনার এআইআর শাখার লিখিত নির্দেশনা ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কিপডাউন (নামানো) করেছে এবং কিপডাউনের পর এআইআর শাখার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা হেফাজতের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট কমিশনারেটে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন পরিদর্শন করে তারা কী ধরনের পণ্য আদমানি ও বিক্রি করে তা জানাতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর



সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পেঁয়াজসহ গ্রেফতার-৮

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৭জন দেখেছেন

Image
তৈয়বুর রহমান, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই মোঃ সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ৪৫ হাজার ৪৮০ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ, ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপসহ ৮ চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেন।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নড়াইল লোহাগড়া থানার আমডাঙ্গা গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে আজিম মোল্লা (২৩), একই থানার মোছড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে মোঃ জসিম শেখ (৩০) ও ওয়াসিম শেখ (২৭), হবিগঞ্জ বাহুবল থানার দক্ষিণ ডুবাঐ গ্রামের মোঃ সমছু মিয়ার ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (২১), বগুড়া শিবগঞ্জ থানার উতলি দাশপাড়া গ্রামের নারায়ন চন্দ্র দাশের ছেলে বিজল চন্দ্র দাশ (২৯), সাতক্ষীরা কলারুয়া থানার দক্ষিণ দিঘং গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মেহেদী হাসান বুলবুল (৩২),  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার তরং শ্রীপুর গ্রামের মৃত মোশাররফ মিয়ার ছেলে মোঃ মিলন (২১), সুনামগঞ্জ সদর থানার পশ্চিম তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আরাফাত উল্লার ছেলে রহমত উল্লা (৪৪)।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি.) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন আব্দুর জহুর সেতুর টোল বক্সের সামনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত আসামিরা ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপ ভ্যানে করে ভারতীয় পেঁয়াজ পরিবহন করছিল। তাদের নিকটে থাকা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে ৪৫ হাজার ৪৮০ কেজি  (১১৩৭ বস্তা) ভারতীয় পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ পরিবহনে ব্যবহৃত ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা।
 
গ্রেফতারকৃত আসামিরা জব্দকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। আসামিরা চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে আনা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করায় তাদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও খবর



মিয়ানমারে সংঘাত; ওপারে থেমে থেমে গুলি, এপারে আতঙ্ক

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৯জন দেখেছেন

Image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ১১৪ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা। 

উখিয়ার রহমতের বিল এলাকার আধা কিলোমিটার পূর্বে মিয়ানমারের সীমান্ত ঢেঁকিবনিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে রহমতের বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে আতঙ্ক। অনেকে ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।  

একই অবস্থা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায়। দিনের মতো রাতেও গুলি বর্ষণ হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

এদিকে মঙ্গলবার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ১৪৯ জন সদস্য ঢুকে পড়েছেন। পরে তাঁরা আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দেন। 

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কিছুক্ষণ পরপর গুলি শব্দ। এলাকার লোকজন আতঙ্কে আছেন। অনেকের বাড়িঘরে এসে গুলি পড়ছে। নিরাপত্তার জন্য তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত। 

মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি ঘিরে রাতভর মর্টার শেল ও গোলাবর্ষণে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার অন্তত ১৩টি গ্রাম। সোমবার রাত নয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত অনবরত এই গোলাবর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ফলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের মধ্যমপাড়া, জলপাইতলী, মণ্ডলপাড়া, নয়াপাড়া, কোনারপাড়া, পশ্চিমকুল, বেতবুনিয়া বাজার পাড়া এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ার ঘাট, পূর্ব ফাঁড়ির বিল, নলবনিয়া, আঞ্জুমান পাড়া, বালুখালী, দক্ষিণ বালুখালী এলাকা কেঁপে ওঠে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ১৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। এ নিয়ে গত রবিবার থেকে দেশটির মোট ২৬৪ জন পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এঁদের বেশির ভাগ বিজিপির সদস্য।

রামু সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মেহেদি হোসাইন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের ভেতরে যাতে প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, তাঁরা বর্ডার গার্ড পুলিশের অ্যাসোসিয়েটেড। ভাষাগত ও অন্যান্য সমস্যার কারণে এর বাইরে আমরা পরিচয় বের করতে পারিনি।’ এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরাপদে থাকবেন। এই মুহূর্তে প্রয়োজন না হলে সীমান্তের কাছাকাছি যাবেন না।


আরও খবর



গভীর রাতে কম্বল নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মন্ত্রী আব্দুর রহমান এমপি

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image
মো: সজীব মোল্লা : ফরিদপুরের মধুখালীতে যে সময় মানুষ ঘুমায় কম্বল মুড়ি দিয়ে। আর সেই সময় গভীর রাতে কম্বল নিয়ে নির্বাচনী এলাকার ছিন্নমূল মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান এমপি। 

এই শীতে তিনি মধুখালী,বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এতিমখানাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন শীতবস্ত্র (কম্বল) নিয়ে।

৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার মেছড়দিয়াসহ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের (গুচ্ছগ্রাম) শতাধিক অসহায় ছিন্নমুল মানুষকে নিজহাতে কম্বল তুলে দেন মন্ত্রী আব্দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিক, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.সুদেব কুমার দাস, মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মিরাজ হোসেন,উপজেলা আওয়াামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক বকু প্রমুখ। কম্বল পাওয়া মেছড়দিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানান, দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কমে গেলেও রাতে বাড়ে শীতের তীব্রতা। শীতের শেষ মুহূর্তে শীতের বেগ রাতে একটু বেশি হয়। এই শীতের রাতে মন্ত্রী সাহেবের দেওয়া কম্বল আমাদের অনেকটাই উপকারে আসবে,ধন্যবাদ তাকে। দীর্ঘায়ু কামনা করি। এক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ফরিদপুর-১ আসনে আমার নির্বাচনী জনপদের তিন উপজেলার প্রায় ১০/১২ হাজার অসহায় মানুষকে শীত মৌসুমে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিভিন্ন মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।এখনো বিতরণ চলমান রয়েছে।আজকে বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদীতে এসেছিলাম একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে ভাবলাম নিজের হাতে ছিন্নমূল মানুষের হাতে কিছু কম্বল দিয়ে যাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।

আরও খবর