Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতির তান্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image

হারুন অর রশিদ উপজেলা প্রতিনিধি : শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্য হাতির তান্ডবে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা। বর্তমানে ও বন্য হাতির তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। উপুর্যপুরি বন্য হাতির তান্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা।

জানা গেছে, সীমান্তেরপ্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চলে অবস্থান করছে বন্য হাতির দল।হাতিকবলিত ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে গারো,হাজং, কোচ,বানাই,হিন্দু মুসলমানসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। ১৯৯৫ সালে এসব পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে শুরু হয় বন্যহাতির পদচারণা। হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে আশ্রয় নিচ্ছে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসছে লোকালয়ে।

ঘর-বাড়ী, ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে চলেছে। ক্ষেতের ফসলরক্ষার্থে পাহাড়ি গ্রাম বাসীরা রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে। ঢাকঢোল ও পটকা ফুটিয়ে,মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্ত যতই হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে ততই হাতির দল তেড়ে আসছে লোকালয়ে। হাতির কবল থেকে রক্ষা পেতে ঘর-বাড়ী ফেলে রেখে অনেকেই চলে আসছেন লোকালয়ে। হাতি চলেযাবার পর বাড়ি ফিরছেন তারা। এতে যেনপাল্লা দিয়েই বাড়ছে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব। নির্ঘুম রাত কাটছে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের।

হাতিকবলিত এলাকা গুলোতে নেই ন্যাচারাল বন। একসময় ২০ হাজার একর বনের জমিতে শালগজারী বনছিল। ৯০ দশকের পর থেকে এসব বন পরিস্কার করে সৃজন করা হয় সামাজিক বন। শত শত একর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। গড়ে উঠেছে জনবসতি। এতেগড়ে উঠছে নাহাতির খাদ্য। বনের জমি বেদখল হওয়ায় সংকুচিত হয়ে পরেছে হাতির আবাস্থল। জানা গেছে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে গারো পাহাড়ে হাতির ২টি খাদ্য ভান্ডার গড়ে তুলার জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু ওই খাদ্য ভান্ডার আর আলোর মুখ দেখেনি।

নাওকুচি গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন সহ গ্রাম বাসীরা জানান,বন্যহাতির তান্ডবে পাহাড়ি এলাকার জমি গুলো চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। অনেকেই জীবিকার তাগিদে হাতির আক্রমনের ভয় উপেক্ষা করে চাষা বাদ করছেন।এছাড়া পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে নাই কোন কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা। ফলে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। গজনী গ্রামের অবিওসাংমা বলেন, পেটে খাবার না থাকলে ও প্রতিরাতেই হাতি তাড়াতে মশাল ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে ২ লিটার কেরোসিন তেল ঘরে রাখতে হয়। অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়না। হাতির আক্রমন শুরুর দিকে প্রশাসন বাজন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের মশাল ব্যবহারের জন্য কেরোসিন তেল বিতরন করা হতো। কিন্তু এখন আর তা করা হয় না।

হাতির কবল থেকে পাহাড়ি গ্রাম বাসীদের রক্ষার্থে বন মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করা কোনই কাজে আসছেনা। অকেজো হয়ে পড়ে আছে সোলার ফেন্সিং। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত শতাধিক। আর হাতির মৃত্যু হয়েছে ৩৩টি। ৩টি হাতি হত্যার বিষয়ে মামলা হয়েছে। এসব হাতির বেশির ভাগই মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক ফাঁদে, নয়তো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে।

হাতির সাথে যুদ্ধ করে বিপর্যস্থ গ্রাম বাসীদের খাদ্য সহায়তা ও হাতি তাড়াতে কেরোসিন তেল বিতরন ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি উঠেছে জন প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাতি কবলিত এলাকায় বসবাস কারিদের সরিয়ে নেয়া ও খাদ্য ভান্ডার গড়ে তোলা হলে মানুষ- হাতি দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনা যাবে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ.ন.ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, হাতির আক্রমনে নিহতদের পারিবার ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০২৪ সালপর্যন্ত ১ কোটি টাকা বিতরন করা হয়েছে।

শেরপুরের জেলাপ্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, সীমান্তের গারো পাহাড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে জনগনকে সচেতনতার লক্ষে বনবিভাগের পক্ষ থেকে রেসপন্স টিম কাজ করছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় সোলারফ্যানসিং স্থাপনএবং অভয়ারণ্য গড়ে তোলাসহ টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ে হাতিসহ প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষায় চেষ্টা ও করা হচ্ছে।


আরও খবর



রমজানে সরকারি অফিস ৪ ঘণ্টা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৩জন দেখেছেন

Image

শাবান মাসের পরই শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। এই মাস হচ্ছে মুসলিমদের জন্য ইবাদতের মাস। এই মাসে নাজিল হয়েছে পবিত্র কুরআন। এই কারণে এই মাসের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এই মাসেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম একটি রাত। শবে কদরের রাত। আর এই কারণে রমজাস মাসে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলে নানা আয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয় নানান সুযোগ সুবিধা।

এবার আসন্ন রমজানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ঘোষণা দিয়েছে, পবিত্র এ মাসে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা অফিস করবেন। এছাড়া এরসঙ্গে থাকবে দুটি ‘গ্রেস পিরিয়ডও’।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন দুটি গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। যেগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাপ্তি হবে ১৫ মিনিট। যার একটি থাকবে অফিস সময় শুরু হওয়ার আগে। আরেকটি অফিস সময় শেষ হওয়ার পর। অর্থাৎ অফিসের সময় শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর্যন্ত চাইলে নারীরা দেরি করে আসতে পারবেন। আবার তারা চাইলে ১৫ মিনিট আগেও বের হয়ে যেতে পারবেন। এজন্য তাদের কোনো জবাবদিহিতা বা শাস্তির মুখে পড়তে হবে না।

অপরদিকে পুরুষদের রমজান মাসে ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অফিস করতে হবে। তারা একটি গ্রেস পিরিডয় পাবেন। যা অফিস শুরুর সময় থাকবে।


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




হাসপাতালে ভর্তি মুস্তাফিজ

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৬জন দেখেছেন

Image

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অনুশীলনে গুরুতর চোটের শিকার হলেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বল করে ফেরার সময় তার মাথায় এসে আঘাত লাগে বলের। ঘটনার পর পরই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালের পথে রওয়ানা হয়েছে মেডিকেল টিম। 

সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রোববার অনুশীলন করছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ক্রিকেটাররা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বল করছিলেন মুস্তাফিজ। 

একটি ডেলিভারির পর যখন ফিরে যাচ্ছিলেন আরেকটি ডেলিভারির জন্য, এমন সময় বল এসে আঘাত করে মুস্তাফিজের মাথার পেছনের দিকে। বলের আঘাতে মাথা থেকে রক্তও বের হতে দেখা যায়।

সঙ্গে সঙ্গে কাটার মাস্টার খ্যাত তারকা এই পেসার মাটিতে বসে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় এপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে। 

মূলত ঝুঁকি এড়ানোর জন্যই এই সতর্কতা অবলম্বন করেছে মেডিকেল বিভাগ। চোট কতটা গুরুতর বা ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা বোঝা যাবে পরীক্ষানিরীক্ষার পর।


আরও খবর

আইপিএল শুরুর তারিখ নির্ধারণ

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আজ একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ২৮জন দেখেছেন

Image

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে ‘একুশে পদক ২০২৪’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ দেবেন।

একুশে পদক উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক-২০২৪’ র জন্য ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম ঘোষণা করে। এ বছর ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে দুজন, শিল্পকলায় ১২ জন, সমাজসেবায় দুজন, ভাষা ও সাহিত্যে চারজন এবং শিক্ষায় একজন বিশিষ্ট নাগরিক এ পুরস্কার পাচ্ছেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন করে আসছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেওয়া টাকার পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০২০ সালে তা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে।


আরও খবর



দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফেরা নিয়ে যা বললেন শাবনূর

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৩৭জন দেখেছেন

Image

দীর্ঘদিনের বিরতির পর ফের নতুন সিনেমা শুরু করতে যাচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। নির্মাতা আরাফাত হোসাইনের ‘রঙ্গনা’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন নন্দিত এই তারকা। শনিবার সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পর্দায় ফেরা ও কাজ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে নিজ ভুবনে ফেরা প্রসঙ্গে শাবনূর জানান, আসলে শিল্পীদের কামব্যাক বলতে কোনো কিছু নেই। এরপরই কাজে ফেরার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রঙ্গনা’ সিনেমার জন্যই আমার দেশে আসা। এই সিনেমার গল্প ও গান খুব টেনে এনেছে আমাকে। এতে দর্শকরা ভিন্ন ঘরানার একটি চরিত্রে দেখতে পাবেন আমাকে। আপাতত গল্প বা এর বেশি বলা যাবে না। তবে সময় উপযোগী একটি গল্প।

অভিনেত্রী বলেন, ১০ বছর আগে আমাদের সিনেমার যে ধরনের দর্শক ছিলেন, এখন কিন্তু তা নেই। এখন আরেক ধরনের দর্শক। সবকিছু বিবেচনা করে বর্তমান প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে ‘রঙ্গনা’র গল্পটি। এসময়ের দর্শকরা এ ধরনের গল্পই পছন্দ করেন। ক্যামেরার সামনে আসতে খুব বেশিদিন লাগবে না। এখন এর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সামনে নতুন নতুন আরও সিনেমা নিয়ে কাজ করে যেতে চান জানিয়ে শাবনূর বলেন, এখানেই থেমে থাকব না। পরপর কাজ করব আমি। চেষ্টা করব একটির পর আরেকটি কাজ করার। একটি কথা বলতে চাই, কামব্যাক বলতে কিছু নেই। শিল্পীদের কখনো মরণ হয় না। শিল্পীরা আজীবন কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। এজন্য আমি আমার এই ফেরাকে কামব্যাক বলতে চাই না।


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঈধিকার পর এবার মিমি

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




পরিচয় না জেনে আশ্রিতদের ফেরত দেওয়া যাবে না

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৩৬জন দেখেছেন

Image

মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে টিকতে না পেরে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) যে ৩২৯ জন সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েই ফেরত পাঠানোর কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আশ্রিতদের মধ্যে কয়েক জন গুপ্তচর রয়েছে বলে এমন আলোচনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আশ্রিতদের ফেরত নিতে জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরা আসলেই সকলেই মিয়ারমারের বিজিপির সদস্য কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় যে ২৩ জনকে অস্ত্রসহ গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে দিয়েছে তাদের মধ্যে ১৭ জনই উখিয়ার একটি ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাদের কাছে আইডি কার্ডও পাওয়া গেছে। তারা কীভাবে ক্যাম্প থেকে ওপারে গেল সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, ‘শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতি নয়, যে কোনো পরিস্থিতিতে কোনো বিদেশি নাগরিক দেশের মধ্যে ঢুকে পড়লে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এটা বিশ্বব্যাপী প্র্যাকটিস। আর মিয়ানমারে যেহেতু সংঘাত চলছে, ফলে সেখানে থেকে কারা এসেছে সেটা অবশ্যই নিশ্চিত করে ফেরত পাঠাতে হবে। এরা কী আসলেই বিজিপি সদস্য, নাকি কোনো বিদ্রোহী গ্রুপের সদস্য সেটাও দেখতে হবে। সবকিছু নিশ্চিত হয়েই তাদের ফেরত দিতে হবে। এটা একটা সাধারণ নিয়ম।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমার তাড়াহুড়ো করলেও আমাদের তাড়াহুড়ো করা যাবে না। তারা কী আদৌ বর্ডার গার্ডের সদস্য কি না, এটা নিশ্চিত হতে হবে। আবার এদের মধ্যে কেউ গুপ্তচরও থাকতে পারে। এগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের মধ্যে এমন কেউ ঢুকে পড়তে পারে, যারা বাংলাদেশে ঢুকে নানা ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে বিদেশে অপপ্রচার করতে পারে। কেউ কোনো সন্ত্রাসী দলের সদস্য হলে সেটা আমাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের প্রশ্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রিতদের মধ্যে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন বা যুদ্ধাপরাধের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটাও নিশ্চিত হতে হবে। তা না হলে তিনি ফিরে গিয়ে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

২৩ জনের ১৭ জনই ক্যাম্পের বাসিন্দা : এদিকে দুই দিন আগে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় যে ২৩ জনকে অস্ত্রসহ আটকের পর এলাকাবাসী পুলিশে দিয়েছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এদের ১৭ জন উখিয়ার একটি ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাদের কাছে ক্যাম্পের পরিচয়পত্রও (এফসিএন কার্ড) রয়েছে। অন্য ছয় জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারা কীভাবে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে মিয়ানমারে গেল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তারা কী কোনো পক্ষের হয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল কি না, কিংবা কী কারণে গেলেন সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। 

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ২৩ জনকে আটকের পর গত শুক্রবার দুপুরে বালুখালি বিওপির নায়ক সুবেদার শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক অস্ত্র ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার এই রোহিঙ্গা যুবকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৬৮ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের ২৪টি খালি খোসাসহ রাইফেল গ্রেনেড ফিউজ পাঁচ রাউন্ড, এসএমজির ম্যাগাজিন ছয়টি, এলএমজির ম্যাগাজিন চারটি, জি-৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন একটি ও পিস্তলের ম্যাগাজিন দুইটি। এই অস্ত্রগুলো তারা কোথায় পেয়েছে সেটাও অনুসন্ধান চলছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামীম হোসাইন ইত্তেফাকে বলেন, শনিবার ঐ ২৩ জনকে আমরা আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি। আদালতে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাদের রিমান্ড হলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। 

আবারও আলোচনায় নবী হোসেন : মিয়ানমারের নাফ নদীর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে বাংলাদেশের শীর্ষ ইয়াবার ব্যবসা করেন নবী হোসেন। নাফ নদীর তীর ঘেঁষে তার শতাধিক চিংড়ি ঘের রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ইয়াবার কারখানাও। চিংড়ি ঘের ব্যবসার নামে সে বাংলাদেশে ইয়াবার চালান পাঠায় নাফ নদী দিয়ে। অবৈধ অস্ত্রও পাঠায়—এমন অভিযোগও রয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে তার রয়েছে বিশাল সশস্ত্র বাহিনী। রাখাইনে যখন সংঘাত চলছে, তখন নবী হোসেন কোথায়? খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবী হোসেন এখনো রাখাইনেই আছে। তার যে ক্যাডার বাহিনী ছিল, তারাও রাখাইনেই আছে। কেউ এখনো বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে নবী হোসেন ভোল পালটে এখন সেখানে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। পাশাপাশি ইয়াবার ব্যবসাও চলছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক পাহাড়া দিলেও এর মধ্য দিয়েও ইয়াবা আসছে। ইয়াবার চালান পাঠাচ্ছেন সেই নবী হোসেন। এমন তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ এলাকার একাধিক বাসিন্দা। এই নবী হোসেন বিরুদ্ধে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়া থানায় হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় মাদকের গডফাদার হিসেবে নবী হোসেনের নাম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকের বেশ কিছুসংখ্যক মামলা রয়েছে বলে একজন কর্মকর্তা জানান। তার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


আরও খবর