Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

পবিত্র শবে মেরাজ আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৬জন দেখেছেন

Image

পবিত্র শবে মেরাজ আজ। ফারসিতে শব শব্দের অর্থ রাত এবং আরবিতে মেরাজের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। 

রজব মাসের ২৬ তারিখের রাতটি মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহিমান্বিত রাতটি ইবাদতে কাটিয়ে থাকেন।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এই রাতে তারা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ ও ইবাদত-বন্দেগি পালন করবেন।

শবে মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন রয়েছে।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে তা পালিত হয়। এ রাতে মহানবী (সা.) সাত আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মুসলিমদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে ফেরেন।

নবুয়ত লাভের ১১তম বছর (৬২১ খ্রিস্টাব্দ) হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য দুঃখ ও শোকের বছর ছিল। এ সময় তিনি তার কঠিন সময়ের দুজন প্রিয় ব্যক্তি স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালেবকে হারিয়েছেন। তা ছাড়া ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তায়েফ গেলে সেখান থেকেও আশাহত হয়ে ফেরেন।  

এরপর মহান আল্লাহ ইসরা ও মেরাজের মাধ্যমে প্রিয় রাসুলকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন।

সেদিন রাতে মহানবী (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামের বিশেষ বাহনে করে বাইতুল মুকাদ্দাসে যান। সেখানে নবী-রাসুলদের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তিনি সাত আসমান অতিক্রম করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন নবীর দেখা হয়।

সিদরাতুল মুনতাহার আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন জিবরাইল (আ.)। এরপর মহানবী (সা.) জান্নাত, জাহান্নামসহ সৃষ্টির বিভিন্ন রহস্য প্রত্যক্ষ করেন।

ফেরার সময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিজ উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার নিয়ে আসেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা ভ্রমণ করিয়েছেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ১)


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




জান্তার আরও দুটি ঘাঁটি দখলে নিল আরাকান আর্মি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০১জন দেখেছেন

Image

রাখাইনের ম্রাউক ইউ ও কিয়াকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর আরও দুটি ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তর দখলে নেওয়ার দাবি করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।  মঙ্গলবার থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

বৃহত্তর স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে লড়াই করে আসা রাখাইন রাজ্যের এই গোষ্ঠী বলেছে, সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর দখলের অভিযানের সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মিয়ানমার জান্তার অনেক সৈন্য হতাহত হয়েছে।

ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের ঐতিহাসিক ম্রাউক ইউ শহরে কয়েক দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর সোমবার সকালের দিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন (এলআইবি)-৩৭৮ এর সদরদপ্তর দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। এর আগে, গত মঙ্গলবার ম্রাউক ইউ শহরে জান্তা বাহিনীর এলআইবি-৫৪০ এর সদরদপ্তরের দখল এবং এলআইবি-৩৭৭ ঘাঁটিতে হামলা চালায় আরাকান আর্মি। 

রাখাইনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই তিনটি ব্যাটালিয়ন ম্রাউক ইউ শহরের ঐতিহাসিক রাজধানী, ম্রাউক ইউ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, শহরের আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণ করেছে।আরাকান আর্মি বলেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি কিয়াকতাও শহরে এলআইবি-৩৭ সদরদপ্তর এবং মিনবিয়া, কিয়াকতাও ও ম্রাউক ইউ শহরের অন্যান্য জান্তা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে যোদ্ধারা।

এদিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনাসহ দেশটির অন্যান্য বাহিনীর ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন  বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে দেব না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এসব কথা জানান। 


আরও খবর

ভেনেজুয়েলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৩ জন

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পেঁয়াজসহ গ্রেফতার-৮

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৭জন দেখেছেন

Image
তৈয়বুর রহমান, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই মোঃ সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ৪৫ হাজার ৪৮০ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ, ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপসহ ৮ চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেন।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নড়াইল লোহাগড়া থানার আমডাঙ্গা গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে আজিম মোল্লা (২৩), একই থানার মোছড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে মোঃ জসিম শেখ (৩০) ও ওয়াসিম শেখ (২৭), হবিগঞ্জ বাহুবল থানার দক্ষিণ ডুবাঐ গ্রামের মোঃ সমছু মিয়ার ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (২১), বগুড়া শিবগঞ্জ থানার উতলি দাশপাড়া গ্রামের নারায়ন চন্দ্র দাশের ছেলে বিজল চন্দ্র দাশ (২৯), সাতক্ষীরা কলারুয়া থানার দক্ষিণ দিঘং গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মেহেদী হাসান বুলবুল (৩২),  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার তরং শ্রীপুর গ্রামের মৃত মোশাররফ মিয়ার ছেলে মোঃ মিলন (২১), সুনামগঞ্জ সদর থানার পশ্চিম তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আরাফাত উল্লার ছেলে রহমত উল্লা (৪৪)।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি.) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন আব্দুর জহুর সেতুর টোল বক্সের সামনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত আসামিরা ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপ ভ্যানে করে ভারতীয় পেঁয়াজ পরিবহন করছিল। তাদের নিকটে থাকা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে ৪৫ হাজার ৪৮০ কেজি  (১১৩৭ বস্তা) ভারতীয় পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ পরিবহনে ব্যবহৃত ৬টি ট্রাক ও ১টি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা।
 
গ্রেফতারকৃত আসামিরা জব্দকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। আসামিরা চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে আনা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করায় তাদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও খবর



বিয়েতে কোন হোটেল বেছে নিলেন রাকুল প্রীত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ২৩জন দেখেছেন

Image

বিয়ে তারিখ আগেই ঘোষণা করেছিলেন বলিউড অভিনয়শিল্পী রাকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানি। বলা চলে বিয়ের প্রস্তুতি এখন শেষে দিকে। তিন দিনব্যাপী চলবে রাকুল-জ্যাকির বিয়ের আয়োজন। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে হলুদ, মেহেদিসহ নানা আচার–অনুষ্ঠান। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাদনাতলায় যাবেন রাকুল-জ্যাকি। ২২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে বিয়ে– পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গোয়ার বিলাসবহুল হোটেল আইটিসি গ্র্যান্ডে হবে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান। ২৪৬ কক্ষের রিসোর্টটিতে ইন্দো-পর্তুগিজ কারুকাজের ছোঁয়া আছে। আর বিয়ের জন্য এই হোটেলকে বেছে নেওয়ার জন্য বেশ সাধুবাদও পাচ্ছেন হবু দম্পতি।

এক প্রতিবেদনে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, রাকুল-জ্যাকির বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথির তালিকা সীমিত। বিশেষ অতিথি ছাড়া বিয়ের আসরে উপস্থিত থাকবেন পরিবার পরিজন আর বন্ধুরা।

বিয়েতে থাকছে কিছু নিয়মকানুন। কার্বনের আধিক্য অর্থাৎ ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে রাকুল প্রীতের জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে প্রেমের বিষয়টি জানান জ্যাকি ভগনানি। এর পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা গেছে তাঁদের।


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঈধিকার পর এবার মিমি

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




বর্ণাঢ্য উৎসবে হিজাব পরলেন তিন হাজার তরুণী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪১জন দেখেছেন

Image

ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য হিজাব উৎসব। ‘গোল্ডেন ক্রাউন ফেস্টিভাল’ নামের উৎসবটি গত শনিবার সেখানকার রাজধানী শহর ইরবিলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন হাজারের বেশি মুসলিম তরুণী হিজাব পরেন। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের মাথায় সোনালি মুকুট পরানো হয়।

জানা গেছে, প্রতিবছর তরুণীদের হিজাব পরা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। টানা দশমবারের মতো গোল্ডেন ক্রাউন ফেস্টিভাল নামের এই উৎসবের আয়োজন করে কুর্দিস্তান স্টুডেন্টস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএসডিও)।

অনুষ্ঠানের আয়োজক কেএসডিও এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গোল্ডেন ক্রাউন ফেস্টিভাল’ প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম নারীর হিজাব যে তার জন্য মুকুটের সমতূল্য এ বিশ্বাস থেকেই বিশাল এই আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে তরুণীরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এখানে হিজাব পরতে শুরু করেন কুর্দিস্তানসহ ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম তরুণীরা। হিজাবি তরুণীদের স্বাগত জানানো এবং সবার মধ্যে হিজাবের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

হিজাব আরবি শব্দ। এর অর্থ হল- আবরণ। যে অতিরিক্ত বড় কাপড় দিয়ে দেহ আচ্ছাদিত করা হয় সেটিকেই হিজাব বলা হয়। মুসলিম নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত উপায়ে হিজাব পরা আবশ্যক। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেন। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা: আহজাব, আয়াত: ৫৯)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, আর মুমিন নারীদের বলে দিন যেন তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে...আর যা সাধারণত প্রকাশ পায়, তা ছাড়া তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না। (সুরা: নুর, আয়াত: ৩১)


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি শনাক্তের পরও খালাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৯জন দেখেছেন

Image

চট্টগ্রাম কাস্টমসে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। আমদানি পণ্যের বিবরণে তুচ্ছ ভুল বা ওজনে সামান্য হেরফেরের কারণে ক্ষুদ্র আমদানিকারক ও উৎপাদকদের ২০০ শতাংশ জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। অথচ শনাক্তের পরও আমদানি নিষিদ্ধ ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লোমেট) খালাসের অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ পণ্য খালাসে জড়িতদের শনাক্তে গঠিত তদন্ত কমিটি কাস্টমস কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি! পুরো ঘটনাকে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের দুর্বলতা এবং মানুষের ‘মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তাকে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২০২২ সালে ঢাকার মিটফোর্ডের একটি বাণিজ্যিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২০ হাজার ১৬০ কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার (চুনাপাথর) আমদানি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের এআইআর (গোয়েন্দা) শাখা পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখতে পায়, চালানে ১৪ হাজার কেজি ঘনচিনি এবং ৬ হাজার কেজি ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার রয়েছে। এ ঘটনায় এআইআর শাখা থেকে আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও জেটি সরকারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই পণ্য পরে ছাড় করা হয়।

ঘনচিনি মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমদানি নীতিতে নিষিদ্ধ। ২০০৬ সালে ঘনচিনির ব্যবহার ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। ঘনচিনি চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি; দামও কম, স্বাদ প্রায় চিনির মতোই। ঘনচিনির ব্যবহার ক্যানসার ঝুঁকি বাড়ায়। মানব হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় একে মাইয়োকার্ডিয়াল ক্যালাসিফিকেশন বলা হয়। এটি শুধু হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির ক্ষেত্রেই ঘটে তা নয়; বরং মূত্রথলিসহ দেহের অন্যান্য পেশিতে এ ঘটনা ঘটে। সেক্স ক্রোমোজমের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক সন্তানের জন্ম হতে পারে। ঘনচিনির ব্যবহারে পুরুষের অণ্ডকোষের ক্ষতি হয়, টেস্টস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়। তাতে পুরুষত্বের হানি ঘটতে পারে। যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। তার ফলে সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা সৃষ্টি হতে পারে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ১২টি প্যাকেটজাত ও ৪টি খোলা চিনির নমুনা সিঙ্গাপুরের প্যাসিফিক ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে তাতে সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার দাবি করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য চালান বন্দরে পৌঁছানোর দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও আমদানিকারক বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) জমা না দেওয়ায় সন্দেহবশত এআইআর চালানটি লক করে। কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনা উত্তোলন করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ কারণে এআইআর বিল অব ল্যাডিং (বি/এল) লক করে এবং ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর টার্মিনাল ম্যানেজারকে কনটেইনারটিকে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা হেফাজতে রাখতে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২৭ নভেম্বর কমিশনার ফাইলে মামলার সিদ্ধান্ত দেন।

যেভাবে পণ্য খালাস নেওয়া হয় : ফৌজদারি মামলার সুপারিশের প্রায় ৩ মাস পর কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ও পরামর্শে আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট কৌশলে পণ্য খালাস নিতে এআইআর শাখায় ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি বি/এল আনলক করার আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআইআর শাখা নতুন আরেকটি ফাইল খুলে বি/এল আনলকের পর নিয়ম অনুযায়ী বি/ই নোটিং করে এবং পরে সেই বি/ই লক করা হয়। ২১ জানুয়ারি কায়িক পরীক্ষার জন্য নমুনা উত্তোলন করা হয়। স্যাম্পল চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হলে রাসায়নিক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়, অর্থাৎ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার পাওয়া যায়। এমনকি পরে শুল্ক গোয়েন্দার কায়িক পরীক্ষায়ও ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায়। কায়িক পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারিতে পণ্য খালাস দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য খালাসে ৪টি নথি খোলা হয়। এআইআর শাখার একটি নথি খোলা হয় বি/এল নম্বর দিয়ে। ঘনচিনির অস্তিত্ব পাওয়ার পর বি/এল লক করে সেই নথি এআইআর শাখা থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শুল্কায়ন শাখায় পাঠানো হয়। প্রায় এক মাস পর আরেকটি নথি খোলা হয়, আমদানিকারকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বি/এল আনলকের জন্য। এ নথির মাধ্যমে বি/এল আনলকের পর বি/ই নোটিং করে আবারও লক করা হয়। পরে শুল্কায়ন শাখার কায়িক পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে মালামাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। যে রিপোর্টে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়ার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পণ্য খালাস নেওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩১ মে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে এআইআর শাখা তৎকালীন উপকমিশনার সাইফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে সিএন্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স বাতিল, আমদানিকারককে নজরদারিতে রাখা এবং এআইআর শাখার তৎকালীন শাখা সহকারীকে বরখাস্তের সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাখা সহকারীকে প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করা হলেও পরে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ১৩ জুলাই উপকমিশনার এইচএম কবিরকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল অব এন্ট্রির (বি/ই) মতো বিল অব ল্যাডিং (বি/এল)-এর কনটেইনার কায়িক পরীক্ষার পর অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে ইনপুট দেওয়ার মতো ইন্সপেকশন অ্যাক্টের ব্যবস্থা নেই। ফলে বি/এল লকের পর কায়িক পরীক্ষার বিষয়টি অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে পাওয়া যায়নি। এটা অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের বড় দুর্বলতা। এ দুর্বলতার সুযোগে ঝুঁকি নিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট বি/এল আনলকের জন্য আবেদন করেন এবং পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শুল্কায়ন সম্পন্ন করে পণ্য খালাস নেয়। এতে আরও বলা হয়, প্রতি মাসে এআইআর শাখায় ১০০টি নথি এবং শুল্কায়ন শাখায় এক হাজার নথি খোলা হয়। কোন নথিতে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা মনে রাখা মনুষ্য ব্রেনের পক্ষে অসম্ভব। তাছাড়া ৪টি নথিতে কমন কোনো কর্মকর্তার সই পাওয়া যায়নি। তাই আলোচ্য জালিয়াতির সঙ্গে কাস্টমসের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে দোষ চাপানো হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা কনটেইনার এআইআর শাখার লিখিত নির্দেশনা ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কিপডাউন (নামানো) করেছে এবং কিপডাউনের পর এআইআর শাখার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা হেফাজতের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ফাইজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট কমিশনারেটে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন পরিদর্শন করে তারা কী ধরনের পণ্য আদমানি ও বিক্রি করে তা জানাতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর