Logo
আজঃ বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪
শিরোনাম

পালংখালী-হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে এলো মিয়ানমারের ৩৭ সীমান্তরক্ষী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪ | ২১০জন দেখেছেন

Image

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার বিজিপি বাহিনীর ৩৭ জন সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে বাংলাদেশের বিজিবির কাছে তারা প্রাণ বাঁচাতে আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দেন। বিজিবি সদস্যরা মিয়ানমার বিজিপি সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

এদের মধ্যে পালংখালী ৯নং ওয়ার্ডের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত হতে ৩৫ জন এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুইজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। 

খবর পেয়ে পালংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি ও হোয়াইক্যং বিজিবির সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়ে আসেন বলে জানান স্থানীয়রা। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন মিয়ানমার বিজিপি সদস্যরা বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে ৩৪ বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

অপরদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া সীমান্ত হতে দুইজন বিজিপি সদস্য অস্ত্রবিহীন নাফ নদী সাঁতরিয়ে প্রবেশ করেন বলে জানান এলাকাবাসী। তবে এদের কাছ থেকে মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ টাকাও জব্দ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত ও টেকনাফ হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া দিয়ে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। সীমানার ওপারে এখনো থেমে থেমে মর্টার শেল ও বুলেটের শব্দে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। 

পালংখালী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল মেম্বার জানান, মিয়ানমারে ওপারে গোলাগুলি চলমান অবস্থায় এপারে পালংখালীতে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিজিপির কমান্ডারসহ ৩৫ জন ঢুকে পড়লে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের বিজিবি হেফাজতে নেয়। পরে বিজিবি তাদের গাড়িযোগে পালংখালী ক্যাম্প থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে।


আরও খবর



শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা টিআইবি'র

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ | ৫৭জন দেখেছেন

Image

চ্যানেল 23 ডেস্ক:


সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 



 মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ ও সংবিধানসম্মত সমাধান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। 


বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল। 



শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশ এবং সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার পালনের এই আন্দোলনে প্রাথমিকভাবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিষ্ণু আচরণ আমাদের মনে আশার সঞ্চার করেছিল।



 অথচ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক সহিংস হামলা করা হলো। গণমাধ্যমসহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া সংবাদে দেখা গেলো, হামলায় প্রকাশ্যে নারী শিক্ষার্থীদেরকেও কাপুরুষোচিতভাবে নির্বিচারে, বিপজ্জনকভাবে আঘাত করা হলো, অসম্মান করা হলো। 



গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আজ রংপুরে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুও হয়েছে। আমরা এই হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ, হতাশ। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দল-মত নির্বিশেষে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’ 


টিআইবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে দেশের গৌরবময় ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনসহ সকল অধিকারভিত্তিক ইতিবাচক অর্জনে শিক্ষার্থীদের স্বর্ণোজ্জ্বল ভূমিকা, সেই বাংলাদেশের ঐতিহ্য বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে। 



সরকারের উচিত হবে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে অস্বীকার না করা; বরং কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক, যুগোপযোগী, শান্তিপূর্ণ ও সংবিধানসম্মত ইতিবাচক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। 



টিআইবি প্রত্যাশা করে, সরকার কোনো অবস্থাতেই সংঘাত উসকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনের পথে হাঁটবে না, বরং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। টিআইবি মনে করে, ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দসহ রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা যেমন পরিহার করতে হবে, তেমনি আন্দোলনকারীদেরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশাত্মবোধ নিয়ে যৌক্তিক দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। 



কোনোভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেন অবমাননা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’



টিআইবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গতকাল দিনভর ও রাতের গভীরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীর মতো আক্রমণ করেছে তা কাপুরুষতা এবং তা প্রতিরোধ করতে না পারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারসমর্থিত ছাত্র সংগঠন ও বহিরাগত সন্ত্রাসীর আক্রমণ ঠেকানোর দায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এড়াতে পারে না।



 আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, সন্ত্রাসীরা প্রথম আক্রমণকারী হলেও সংঘাতের দায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর অশুভ প্রচেষ্টা যেমন চলছে, তেমনি হামলা ঠেকাতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে, সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন, যার নিন্দার পর্যাপ্ত ভাষা নেই।



 স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আমরা স্তম্ভিত, হতবাক। আমরা এমন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে এবং সহিংসতায় জড়িত সকলকে নির্মোহ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’



কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সংবিধানসম্মত দ্রুততম সমাধানের লক্ষে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব পক্ষকেই সংযত ও যৌক্তিক আচরণ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে হামলার ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবেশ যে কোনো উপায়ে নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।



আরও খবর



ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪ | ৪৫জন দেখেছেন

Image


ডেস্ক রিপোর্ট:


কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল সারাদেশ। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।


বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মোস্তফাপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


এর আগে মাদারীপুর সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মোস্তফাপুরে গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। 



এ সময় তারা সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।


একপর্যায়ে সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হাজির হলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে নারীসহ পাঁচ জন আহত হন।



এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, মহাসড়কে কোটা সংস্কারের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ সকাল থেকেই মহাসড়কে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাদের বোঝানো হয়।



 পুলিশের চেষ্টায় অনেক শিক্ষার্থী মহাসড়ক ছেড়ে দিলেও অনেকেই আবার মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় কোটার পক্ষের কিছু লোক তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।


তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি ঘটেনি। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।


আরও খবর



গভীর রাতে জাবি রণক্ষেত্র, দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, গোলাগুলি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪ | ৬৬জন দেখেছেন

Image



সদরুল আইন, চ্যানেল 23 ডেস্ক থেকেঃ



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে।



 ছাত্রলীগের দুই দফা হামলা, অস্ত্রধারী বহিরাগতদের নিয়ে আসা, এবং এক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গোটা ক্যাম্পাস।


সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের দেড়শতাধিক নেতাকর্মী বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।



 পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তা আরও ঘোলাটে আকার ধারণ করে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে ছাত্রলীগকে পিছু হটালেও এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। 



পরে পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেল ও গুলিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগরের ভয়াল পরিস্থিতির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।



জানা যায়, সাংবাদিকদের ওপর পেট্রোল বোমা ছুড়ে মেরেছে বহিরাগতরা। আতঙ্কে তারা পুকুরে বসে থাকেন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেয়নি। কেউ কেউ জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। অনেকেই আতঙ্কে দিশেহারা। এসময় ফোনে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না কেউ।


প্রায় একইসময়ে জেইউ ইনসাইডার নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে বলা হয়, 'এমন ভয়াল কালোরাত জাহাঙ্গীরনগরের জীবনে হয়তো আর আসেনি।' ওই পেজ থেকে ক্যাম্পাসের সংঘর্ষের চিত্র লাইভের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিলো।


 পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা করেছিল ছাত্রলীগ, পরে দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থী এসে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করে। অন্যদিকে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও গুলিতে বণিক বার্তার মেহেদী মামুন, দৈনিক বাংলার আব্দুর রহমান খান সার্জিল ও বাংলাদেশ টুডে'র জোবায়ের আহমেদ আহত হন। 



পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও বেধড়ক মারধর করে। এরপর পুলিশ জলকামান নিয়ে আসে। পুলিশ অন্তত অর্ধশত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।  শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


অনলাইন পোর্টাল রাইজিংবিডির জাবি প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন জানান, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে ছাত্রলীগ বাইরে থেকে একশ জন শুটার নিয়ে এসেছিল। তাদের পরনে ছিল হেলমেট ও কালো টি-শার্ট। হাতে পিস্তলসহ অন্যান্য অস্ত্র ছিল। এরা সাভার ও আশুলিয়ার লোকাল গ্যাং হতে পারে।



 ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সামনে রেখে হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রথমে আক্রমণের শিকার হলেও পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগকে ধাওয়া দেন। হল থেকে হাজারো শিক্ষার্থী বের হয়ে এলে ছাত্রলীগ পিছু হঠে। সেসময় পুলিশের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বেঁধে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।


এর আগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মাহফুজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সামনে আমাদের মিছিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল। এর প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলাম।



 পরে রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফায় লাঠি হাতে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।'


 প্রসঙ্গত সোমবার সন্ধ্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে অর্ধশতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হন। 



রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ও অবৈধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বিতাড়িত করতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটক ছেড়ে রাস্তায় চলে যান। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে ফটক ভেঙে বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় বেশ কয়েকটি পেট্রলবোমা ছুড়ে বাসভবনের প্রধান ফটকের লাইটসহ বিভিন্ন লাইট ভাঙচুর করেন তারা। এরপর আন্দোলনকারীদের মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপাচার্য বাসভবনেই ছিলেন বলে জানা গেছে।


সেসময় এক ফেসবুক পোস্টে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহের হোসেন লিখেছেন, 'ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা ঢুকেছে। ছাত্রছাত্রীরা ভয়ে ভিসি মহোদয়ের বাংলোতে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনকে নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ করছি। যা কিছুই হোক, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।'


ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবদুল্লাহ হিল কাফী বলেন, 'আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।' 


তবে সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আরও খবর



গুলির পর কেমন আছেন ট্রাম্প, জানাল সিক্রেট সার্ভিস

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪ | ৬৯জন দেখেছেন

Image


 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় হামলাকারীসহ দুইজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে এই ঘটনা ঘটে।  


যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার (সিক্রেট সার্ভিস) যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ট্রাম্প নিরাপদে আছেন।


তিনি বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিস প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট নিরাপদে আছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে।



প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ঘটনা অবহিত করা হয়েছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ট্রাম্প নিরাপদ আছেন এবং ভালো আছেন জেনে আমি কৃতজ্ঞ। 


আমি তার জন্য, তার পরিবারসহ সমাবেশে উপস্থিত সকলের জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।


আরও খবর



কোটা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গায়েবি জানাজার ঘোষণা দিল বিএনপি

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ জুলাই 20২৪ | ৪৪জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:



কোটা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বুধবার (১৭ জুলাই) বাদ জুমা সারা দেশে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।


মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের হামলার জের ধরে দেশজুড়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।



 আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিমুখী এই সংঘর্ষে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 



সংঘর্ষ এখনো থামেনি। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঘটছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা।



আরও খবর