Logo
আজঃ সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

কারামুক্ত মির্জা ফখরুল-আমীর খসরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১৬৪জন দেখেছেন

Image

জামিনে কারামুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন মির্জা ফখরুল ও আমীর খসরু।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ও আমীর খসরু কারাগারের মূল ফটক থেকে বেরিয়ে যান। তারা দু’জনই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংসতা হলে ২৯ অক্টোবর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গুলশানের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এছাড়া গত ২ নভেম্বর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও গুলশানের বাসা গ্রেফতার করা হয়। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় বিএনপির এই দুই নেতাকে।


আরও খবর



সাহরি খাওয়ার ফজিলত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ৯৮জন দেখেছেন

Image

সাহার অর্থ হলো রাতের শেষাংশ, প্রভাত বা ভোররাত। আর সাহরি বা সাহুর হলো শেষ রাত বা ভোরের খাবার। ইসলামী পরিভাষায় রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের আগে রোজাদার যে খাবার গ্রহণ করেন তা সাহরি। 

সাহরি খাওয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। আগের উম্মতের রোজা ও এ উম্মতের রোজার পার্থক্য হলো সাহরি। অর্থাৎ আগের উম্মত সাহরি খেত না কিন্তু এ উম্মত সাহরি খায়। 

আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমাদের সিয়াম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি খ্রিস্টান) সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’ সহিহ মুসলিম।  সাহরি এমনই এক বরকতময় খাবার যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সাহরি খেতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও সাহরি খাওয়ার নির্দেশ দিতেন। 

আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে। সহিহ মুসলিম। সাহরি গ্রহণকারীদের ওপর আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। তাই আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরি গ্রহণ করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। 

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সাহরি খাওয়া বরকত, তাই তোমরা তা ছাড়বে না; এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ যারা সাহরি খায় আল্লাহ তাদের ওপর বিশেষ রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করতে থাকে।’ মুসনাদে আহমাদ।

রোজা রাখা ফরজ আর সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরি না খাওয়ার অজুহাতে রোজা ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও রোজা রাখতেই হবে। এমনকি ইচ্ছাকৃত সাহরি না খেলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না, তবে সাহরির সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হবে। বরকতপূর্ণ এ খাবার অল্প হলেও গ্রহণ করা উচিত। আবার সারা দিন না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে খুব বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণও উচিত নয়। স্বাভাবিক খিদের সময় যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা হয় তা-ই গ্রহণ করা উচিত। সাহরির সময় হলো শেষ রাত (সুবহে সাদিকের আগে)। 

ফকিহ আবুল লাইস (রহ.) বলেছেন, সাহরির সময় হলো রাতের শেষ ষষ্ঠাংশ। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম : ৩০৫। তবে সাহরির পুরো সময়ের মধ্যে সর্বশেষ সময়ের একটু আগে সাহরি খাওয়া উত্তম। এমন সময়ে খাবার শুরু করা যেন সাহরির সর্বশেষ সময়ের (সুবহে সাদিক) অল্প কিছুক্ষণ আগেই খাওয়া শেষ হয়ে যায়। তবে এত দেরি করা উচিত নয় যাতে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আশঙ্কা হয়। ফজরের আজান পর্যন্ত সাহরি খাওয়া কিছুতেই ঠিক নয়। 

কারণ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘আর পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা না যায়’। সুরা বাকারা : ১৮৭।  এ আয়াতে সুবহে সাদিকের শুভ্র রেখা ফুটে ওঠাকে সাহরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবহে সাদিক উদিত হয়ে গেলে সামান্যও খাওয়া যাবে না। সাহরির সময় হলো সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আর ফজরের আজান হয় সুবহে সাদিকের পর।  

গ্রাম-শহর সর্বত্রই সাহরির জন্য মানুষকে জাগানো আবহমান বাংলার সংস্কৃতি। তবে সাহরির জন্য জাগ্রত করতে মাইকে বা শব্দযন্ত্রে দীর্ঘ সময় লাগাতার ডাকাডাকির ক্ষেত্রে শিশু, রোগী ও তিলাওয়াত-তাহাজ্জুদসহ বিভিন্ন আমলে থাকা মানুষদের যেন কষ্ট না হয় এদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।


আরও খবর

অন্তরের মরিচা দূর করতে করণীয়

রবিবার ৩১ মার্চ ২০২৪




সোমবার ২৫ মার্চ রাতে ১ মিনিট অন্ধকারে থাকবে দেশ

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ৫৬জন দেখেছেন

Image

অন্যান্য বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আগামী ২৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে ১১টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনাসমূহ এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

আগামী সোমবার ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দেবেন। এছাড়া ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সকাল সাড়ে ১০টায় গণহত্যা দিবসের ওপর আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতিনাট্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। 

এছাড়া, স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকাসহ সকল সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এদিন বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময় দেশের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।


আরও খবর



ঈদযাত্রা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হবে: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ মার্চ 20২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ৭৪জন দেখেছেন

Image

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের দেশের রাজনীতি এত নির্মম যে জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু করার কথাও আসে। সমালোচনা করার জন্য সামলোচনা করতেই হবে। একটা মেগা প্রজেক্টের কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সেটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নানান সমস্যার জন্য হয়েছে। বিআরটি প্রকল্পের জন্য সেরকম দুর্ভোগ হবে না। তবে এবার ময়মনসিংহে যাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। গতবারও আমরা একটি রাস্তা চালু করে দিয়েছিলাম। সেজন্য কিছুটা স্বস্তি হয়েছিল। এবার সাতটি ফ্লাইওভার চালু করে দিচ্ছি, তাতে চলাচল আরও সহজ হবে।

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদযাত্রার বিষয়ে আমরা সভা করেছি। ট্রাক-ভারী পরিবহন বন্ধ রাখা আগে ও পরে, সেটির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার যেটি কাজ, সেটি তারা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাতে যানজট দূর করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। গাজীপুর কিছুটা সমস্যার কারণ ছিল। কিন্তু সেটির এবার আরও সমাধান হয়ে গেলো। এবার ঈদযাত্রা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হবে।

আজ বেলা ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সওজ অংশের আওতায় নির্মিত সাতটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকার যানজট নিরসনে সিগন্যাল বাতি চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। কবে শেষ হবে সেটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারবেন। তবে কাজ যেহেতু শুরু হয়েছে, শেষ তো হবেই।

এসময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



পিএসজির গোল উৎসব এমবাপের হ্যাটট্রিকে

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ৮৪জন দেখেছেন

Image

লিগ আঁতে তিন ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন কিলিয়ান এমবাপে। ছড়ালেন হ্যাটট্রিকের আলো। তার দারুণ নৈপুণ্যের দিনে জয়ের পথে ফিরল পিএসজি। মোঁপেলিয়ের মাঠে রবিবার (১৭ মার্চ) রাতে ৬-২ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা। তাদের অন্য তিন গোলদাতা ভিতিনিয়া, লি কাং-ইন ও নুনো মেন্দেস। তিন ম্যাচ পর ঘরোয়া লিগে জয়ের স্বাদ পেল পিএসজি।

ম্যাচের চতুর্দশ মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়ার গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপে। ২২তম মিনিটে সতীর্থের পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলটি করেন তিনি। আট মিনিট পর ব্যবধান কমিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলার আভাস দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড নর্দিন। বিরতির আগে সমতাসূচক গোলের দেখাও পায় স্বাগতিকরা; গোলটি করেন ফরাসি মিডফিল্ডার সেভেনিয়ের।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর কেনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি মোঁপেলিয়ে। তিন মিনিটের ব্যবধানে দুবার জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি। ৫০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে দলকে ফের এগিয়ে নেন এমবাপে। ৫৩তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার মিডফিল্ডার কাং-ইনও বক্সের বাইরে থেকে ঠিকানা খুঁজে নেন।

৬৩তম মিনিটে ভিতিনিয়ার পাস বক্সে পেয়ে ডান পায়ের শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি তারকা। চলতি লিগে এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। আর নির্ধারিত সময় শেষের আগের মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে শেষ গোলটি করেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার মেন্দেস।

দারুণ এই জয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল পিএসজি। ২৬ ম্যাচে ১৭ জয় ও আট ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৫৯। ১২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ব্রেস্ত। ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে মোঁপেলিয়ে।


আরও খবর



এমপি-নেতারা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারবেন না

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা কাউকেই প্রার্থী করতে পারবেন না। দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল কোনো নেতাও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। তবে স্থানীয় কোনো নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে দল থেকে কোনো অবস্থায়ই কাউকে সমর্থন করা যাবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে সিরিজ বৈঠকের প্রথম দিনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রংপুরের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় নেতারা ছাড়াও ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর নেতারা এবং দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের ডাকা হয়েছে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ও জেলার কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ, উন্মুক্ত নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিরাসহ স্থানীয় নেতারা যার যার মতো করে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে কিংবা নতুন করে প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে উপজেলায় পছন্দের নেতাদের প্রার্থী করার এই প্রবণতাকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় দলের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা এলো। 

এর আগে সূচনা বক্তব্যে বৈঠকের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বলে জানান। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সব ধরনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের কঠোর তাগিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করতে এমপি কিংবা নেতাদের কারও হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন। 

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো আগামীতে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তাই এসব নির্বাচনকে ঘিরে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় কোন্দলের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ও উন্নয়ন কর্মককাণ্ড ম্লান না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা আরও জানান, রংপুর মহানগরসহ রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছায় আওয়ামী লীগে আগে থেকেই অন্তর্কোন্দল রয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধার জেলা-উপজেলায়ও নতুন করে কোন্দল রয়েছে। এই কোন্দল নিরসনসহ দল গোছাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বিশেষ দুর্গম চরাঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

সূত্রমতে, বৈঠকে রংপুর মহানগরীর ছয় থানা কমিটি অনুমোদনের ক্ষমতা খর্ব করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের, যা এখন কেন্দ্রীয় কমিটি করবে। একইভাবে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো জেলা কমিটি উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন কিংবা ভাঙতে পারবে না এবং কাউকে পদ থেকে অব্যাহতিও দিতে পারবে না বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এর আগে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রংপুর মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও ফের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মহানগরের ছয় থানা কমিটি গঠনের এক বছর পার হলেও অনুমোদন না দেওয়া, আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করাসহ নানা কারণে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা বিরাজ করে, নেতকর্মীর মাঝেও দেখা দেয় বিভক্তি। গতকালের বৈঠকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরে স্থানীয় নেতারা এর অবসানে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চান। এই অবস্থায় কেন্দ্র থেকে থানা কমিটি অনুমোদনের ওই সিদ্ধান্ত আসে। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সমকালকে বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করা হয়েছে। যেখানে দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল ও মতানৈক্য দূর করে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীর ভূমিকা রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

দলের পঞ্চগড় জেলা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের কোনো নেতা কিংবা এমপি উপজেলায় চেয়ারম্যান বা কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। 

দলের রংপুর মহানগর আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রংপুরসহ বিভাগের কিছু কিছু সাংগঠনিক জেলায় সমস্যা আছে। যার সমাধানে বৈঠকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। এ ছাড়া থানা বা উপজেলা কমিটি গঠন বা ভাঙতেও কেন্দ্রের নির্দেশনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নীলফামারী জেলা সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহম্মেদ এবং লালমনিরহাট জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান এমপি জানান, বৈঠকে দলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। 

দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা জানান, আগামী নির্বাচনগুলো যাতে করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য সব নেতাকর্মীকে সজাগ থাকাসহ সংসদ নির্বাচন নিয়েও মনোক্ষণ্ন কিংবা হতাশা না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই রকম কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক রায় ও কুড়িগ্রাম জেলার সহসভাপতি সাঈদ হাসান লোবান।


আরও খবর