Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

জান্তার আরও দুটি ঘাঁটি দখলে নিল আরাকান আর্মি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০৩জন দেখেছেন

Image

রাখাইনের ম্রাউক ইউ ও কিয়াকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর আরও দুটি ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তর দখলে নেওয়ার দাবি করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।  মঙ্গলবার থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

বৃহত্তর স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে লড়াই করে আসা রাখাইন রাজ্যের এই গোষ্ঠী বলেছে, সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর দখলের অভিযানের সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মিয়ানমার জান্তার অনেক সৈন্য হতাহত হয়েছে।

ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনের ঐতিহাসিক ম্রাউক ইউ শহরে কয়েক দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর সোমবার সকালের দিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন (এলআইবি)-৩৭৮ এর সদরদপ্তর দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। এর আগে, গত মঙ্গলবার ম্রাউক ইউ শহরে জান্তা বাহিনীর এলআইবি-৫৪০ এর সদরদপ্তরের দখল এবং এলআইবি-৩৭৭ ঘাঁটিতে হামলা চালায় আরাকান আর্মি। 

রাখাইনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই তিনটি ব্যাটালিয়ন ম্রাউক ইউ শহরের ঐতিহাসিক রাজধানী, ম্রাউক ইউ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, শহরের আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণ করেছে।আরাকান আর্মি বলেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি কিয়াকতাও শহরে এলআইবি-৩৭ সদরদপ্তর এবং মিনবিয়া, কিয়াকতাও ও ম্রাউক ইউ শহরের অন্যান্য জান্তা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে যোদ্ধারা।

এদিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ও সেনাসহ দেশটির অন্যান্য বাহিনীর ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন  বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে দেব না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এসব কথা জানান। 


আরও খবর

ভেনেজুয়েলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৩ জন

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




প্রথম আর্ট কলেজ চালু করল সৌদি আরব

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৭জন দেখেছেন

Image

প্রথম আর্ট কলেজ চালু করল সৌদি আরব। রাজধানী রিয়াদের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত এই আর্ট কলেজ চালু করা হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কলেজের জন্ম হল।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রী হামেদ বিন মোহাম্মদ ফয়েজ এবং কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. বদরান আল-ওমর। এছাড়া অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটির সংস্কৃতি ও শিল্প অনুরাগীরা।

ফয়েজ তার বক্তব্যে আর্ট সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের তাৎপর্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সংস্কৃতি ও শিল্প নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহানের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই আর্ট ইনস্টিটিউট।

তিনি বলেন, এই ইনস্টিটিউট হবে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির মধ্যে সংমিশ্রণের সূচনা। এই কলেজে ডিজাইন, পারফরমিং আর্টস এবং ভিজ্যুয়াল আর্ট বিষয়ক বিভাগ থাকবে।


আরও খবর

ভেনেজুয়েলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৩ জন

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সাবেক ডাচ প্রধানমন্ত্রী স্ত্রীকে নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৩১জন দেখেছেন

Image

এক সঙ্গে ৭০ বছর কাটিয়ে দিলেন। কিন্তু তারপর আর বাঁচার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেন তারা। তাই দুইজন একসঙ্গে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন। জীবনে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে শুরু করে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন। তারপর কেনো তারা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন।

এ জীবনের থেকে মরণও ভালো! একইসাথে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রিস ভান অঘ্ট এবং তার স্ত্রী ইউজিনি। তাই ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতিও টানলেন একসাথে। হাতে হাত রেখে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে।

গত সোমবার দ্রিস-ইউজিনি আইনি পথে নিষ্কৃতি মৃত্যুর (ইউথেনেশিয়া) পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেল প্রেমের দিবসে। দু’জনেরই বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে তারা বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। দ্রিস একটি মানবাধিকার সংস্থার কর্ণধার ছিলেন। তাদেরই তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, কোনো ‘স্পেশাল ক্লিনিক’ নয়, গ্রামের বাড়িতেই নিষ্কৃতি মৃত্যুর পথ বেছেছেন দু’জনে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময়ও পরস্পরের হাত ধরে রেখেছিলেন দ্রিস-ইউজিনি। একইসাথে বিষ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তারা মৃত্যুবরণ করেন।  ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন দ্রিস। ‘ক্রিশ্চান ডেমোক্র্যাটিক আপিল পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা নেতাও ছিলেন তিনি। নিষ্কৃতি-মৃত্যুর প্রবণতা ক্রমশই বাড়ছে নেদারল্যান্ডসে। গত বছর সরাকরি অনুমতি নিয়ে ২৯ যুগল স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন সে দেশে।


আরও খবর

ভেনেজুয়েলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৩ জন

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫০জন দেখেছেন

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসনে ৪৮ জন দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গণভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।

সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগ যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— পঞ্চগড়ে রেজিয়া ইসলাম, ঠাকুরগাঁও দৌপদী দেবী আগরওয়াল, নীলফামারী মোসাম্মৎ আশিকা সুলতানা, জয়পুরহাট ডা. রোকেয়া সুলতানা, নাটোর কোহেলি কুদ্দুস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেবিন মাহমুদ, খুলনা রুনু রেজা ও বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, বাগেরহাট ফরিদা আক্তার বানু, বরিশাল শাম্মী আহমেদ, বরগুনা মোসাম্মৎ ফারজানা সুমি, ভোলা খালেদা বাহার বিউটি, পটুয়াখালী নাজনীন নাহার, নরসিংদী ফরিদা ইয়াসমিন, ময়মনসিংহ উম্মে ফারজানা সাত্তার, নেত্রকোণা নাদিয়া বিনতে আমিন, ঝিনাইদহ পারভীন জামান কল্পনা, কুমিল্লা অ্যারোমা দত্ত, সাতক্ষীরা লাইলা পারভীন, ঢাকা থেকে শবনম জাহান, পারুল আক্তার, সাবেরা বেগম, নাহিদ ইজহার খান, মুন্সীগঞ্জ ফজিলাতুন্নেছা, ফরিদপুর ঝর্ণা হাসান প্রমুখ।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। ৪৮টি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ১৫৪৯জন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণভবনে ডাকেন সাক্ষাতের জন্য। বুধবার সকালে সাক্ষাত শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ড বসে।


আরও খবর



পবিত্র শবে মেরাজ আজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৬জন দেখেছেন

Image

পবিত্র শবে মেরাজ আজ। ফারসিতে শব শব্দের অর্থ রাত এবং আরবিতে মেরাজের অর্থ ঊর্ধ্বগমন। 

রজব মাসের ২৬ তারিখের রাতটি মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহিমান্বিত রাতটি ইবাদতে কাটিয়ে থাকেন।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে এই রাতে তারা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ ও ইবাদত-বন্দেগি পালন করবেন।

শবে মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আলোচনাসভা ও দোয়ার আয়োজন রয়েছে।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে তা পালিত হয়। এ রাতে মহানবী (সা.) সাত আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মুসলিমদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে ফেরেন।

নবুয়ত লাভের ১১তম বছর (৬২১ খ্রিস্টাব্দ) হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য দুঃখ ও শোকের বছর ছিল। এ সময় তিনি তার কঠিন সময়ের দুজন প্রিয় ব্যক্তি স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালেবকে হারিয়েছেন। তা ছাড়া ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তায়েফ গেলে সেখান থেকেও আশাহত হয়ে ফেরেন।  

এরপর মহান আল্লাহ ইসরা ও মেরাজের মাধ্যমে প্রিয় রাসুলকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন।

সেদিন রাতে মহানবী (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাক নামের বিশেষ বাহনে করে বাইতুল মুকাদ্দাসে যান। সেখানে নবী-রাসুলদের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তিনি সাত আসমান অতিক্রম করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন নবীর দেখা হয়।

সিদরাতুল মুনতাহার আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন জিবরাইল (আ.)। এরপর মহানবী (সা.) জান্নাত, জাহান্নামসহ সৃষ্টির বিভিন্ন রহস্য প্রত্যক্ষ করেন।

ফেরার সময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিজ উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার নিয়ে আসেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পবিত্র ও মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা ভ্রমণ করিয়েছেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ১)


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বেড়েছে ইসরাইল-হিজবুল্লাহর পাল্টা-পাল্টি হামলা ; দুই পক্ষের শক্তির তুলনা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৩৬জন দেখেছেন

Image

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে চলতি সপ্তাহে আন্তঃসীমান্ত সংঘাত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ক্রমশ পুরোদমে যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার লেবানন থেকে নিক্ষিপ্ত একটি রকেট ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সাফেদে আঘাত হানলে ২০ বছর বয়সী এক নারী সৈন্য নিহত ও অন্তত পক্ষে ৮ জন আহত হয়।

জবাবে, ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়ে দক্ষিণ লেবাননে কমপক্ষে ১০ জনকে হত্যা করে। এদের মধ্যে একজন সিরীয় নারী ও তার দুই সন্তানসহ অন্য একটি পরিবারের ৪ জন সদস্য ছিল। বাকি তিনজন ছিল হিজবুল্লাহ যোদ্ধা। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৯ জন। 

৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ এবং এই আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার সূত্রপাত হয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে- যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।

হিজবুল্লাহ বুধবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আরো উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে দু'পক্ষের অস্ত্রাগারের তুলনামূলক পর্যালোচনা নিচে দেয়া হলো-

হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা- আরব বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আধাসামরিক বাহিনীগুলোর একটি হিজবুল্লাহ। একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পাশাপাশি একটি বিশাল অস্ত্রাগারও রয়েছে বাহিনীটির। ইরানের সমর্থন রয়েছে বাহিনীটির প্রতি। সিরিয়ার ১৩ বছরের সংঘাত থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা তাদের যোদ্ধাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহর মতে, দলটির যোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ বলা হলেও অন্যান্য সদস্যদের মতে তা অর্ধেকেরও কম। ইসরাইল চায় সীমান্ত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ তার বিশেষ রাদওয়ান বাহিনী প্রত্যাহার করে নিক যাতে করে উত্তরাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলো থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার ইসরাইলি নিজেদের বাস্থানে ফিরে যেতে পারে।

ওয়াশিংটনের চিন্তক গোষ্ঠী সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, হিজবুল্লাহর কাছে বেশিরভাগ ছোট, বহনযোগ্য এবং ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য আর্টিলারি রকেটের বিশাল অস্ত্রাগার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারণা, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য গোষ্ঠীর কাছে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট রয়েছে। হিজবুল্লাহ নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও কাজ করছে।

হিজবুল্লাহ এর আগেও ইসরাইলে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং ২০০৬ সালে ভূমি থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইলের একটি যুদ্ধ জাহাজে আঘাত হানে। হিজবুল্লাহ বাহিনীর কাছে অ্যাসল্ট রাইফেল, ভারি মেশিনগান, রকেট পরিচালিত গ্রেনেড, রাস্তায় পাতার জন্য বোমা এবং অন্যান্য অস্ত্র রয়েছে।

ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা- দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বার্ষিক তিন শ’ তিরিশ কোটি ডলার সহায়তা পেয়ে আসছে। তাছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য ৫০ কোটি ডলার সহায়তাও করছে পায় তারা।

বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রের দিক দিয়ে অন্যতম সুসজ্জিত দেশ ইসরাইল। এর বিমান বাহিনীতে রয়েছে অত্যাধুনিক আমেরিকান এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান; আমেরিকান তৈরি প্যাট্রিয়টসহ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি; আয়রন ডোম রকেট-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরাইলের সাঁজোয়া কর্মী বহনের যান, ট্যাঙ্ক এবং রাস্তায় যেকোনো লড়াইয়ের উপযোগী ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির একটি বহর রয়েছে।

ব্রিটিশ চিন্তক গোষ্ঠী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতে, ইসরাইলের ১ লাখ ৭০ হাজার সেনা সক্রিয় দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া, যুদ্ধের জন্য তাদের আনুমানিক সক্ষমতার তিন-চতুর্থাংশ, প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করা আছে। যুদ্ধের এই পঞ্চম মাসে রিজার্ভ এই সৈন্যদের অধিকাংশই দেশে ফিরে গেছে। ইসরাইলের হাতে দীর্ঘদিন ধরে অঘোষিত পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিও বজায় রয়েছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষকই মনে করেন যে- হিজবুল্লাহ কিংবা ইসরাইল কারো কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা নেই তবুও এ রকম আশংকা রয়েছে যে- হিসেবে ভুল হলে সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশ তাদের কূটনীতিকদের পাঠিয়েছে।


আরও খবর

ভেনেজুয়েলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৩ জন

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪