Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

হলুদের সমারোহে পাল্টে গেছে সাতক্ষীরার দৃশ্যপট

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১০২জন দেখেছেন

Image

সাতক্ষীরার ফসলের মাঠে এখন যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সরিষা ফুলের সমারোহ। সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধে মধু সংগ্রহ করতে উড়তে দেখা যাচ্ছে মৌমাছিদের।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চাষ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ২১ হাজার ৭৬৭ দশমিক ২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যেখানে গত ৫ বছর আগে চাষ হতো মাত্র ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কয়েক বছরের ব্যবধানে জেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। চাষের সময় আর খরচ কম হওয়ায় সরিষা চাষ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে শস্যটির ফলনও আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ। মূলত সয়াবিনের উচ্চ মূল্যের কারণে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সরিষার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কয়েক বছরে বেশকিছু নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বিনার সরিষা হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১ দশমিক ৮ টন। জীবনকাল মাত্র ৮৭ দিন। বাড়তি ফলন ও কম সময়ের কারণে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।

অপরদিকে বাজারে দাম ভালো দাম পাওয়ায় সরিষা চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। বাজারে সরিষা ফুল ও সরিষা শাকেরও চাহিদা বাড়ছে। ফলে ফুল ও শাক বিক্রি করেও বাড়তি উপার্জন করছেন অনেকে।

তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কৃষক শামছুর রহমান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ১ বিঘা জমিতে প্রায় ৫-৭ মণ করে সরিষার ফলন হবে।প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বর্তমান ভোজ্যতেলের চাহিদার শতকরা ৯০ ভাগ বিদেশ থেকে আনতে হয়। এতে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশে ৫০ ভাগ তেল উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে ৩ বছর মেয়াদী রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে বারি ও বিনার উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলোর ফলন বেশি। এ কারণে এতে চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করছেন। এরপর আবার বোরো ধান রোপণ করতে পারছেন। এতে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে।’


আরও খবর

শার্শায় সরিষায় আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের

বৃহস্পতিবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩




মিয়ানমারে সংঘাত; ওপারে থেমে থেমে গুলি, এপারে আতঙ্ক

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৫৯জন দেখেছেন

Image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ১১৪ জন। তাঁদের মধ্যে আছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা। 

উখিয়ার রহমতের বিল এলাকার আধা কিলোমিটার পূর্বে মিয়ানমারের সীমান্ত ঢেঁকিবনিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে রহমতের বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে আতঙ্ক। অনেকে ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।  

একই অবস্থা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায়। দিনের মতো রাতেও গুলি বর্ষণ হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

এদিকে মঙ্গলবার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও ১৪৯ জন সদস্য ঢুকে পড়েছেন। পরে তাঁরা আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দেন। 

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কিছুক্ষণ পরপর গুলি শব্দ। এলাকার লোকজন আতঙ্কে আছেন। অনেকের বাড়িঘরে এসে গুলি পড়ছে। নিরাপত্তার জন্য তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত। 

মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি ঘিরে রাতভর মর্টার শেল ও গোলাবর্ষণে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার অন্তত ১৩টি গ্রাম। সোমবার রাত নয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত অনবরত এই গোলাবর্ষণ ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ফলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের মধ্যমপাড়া, জলপাইতলী, মণ্ডলপাড়া, নয়াপাড়া, কোনারপাড়া, পশ্চিমকুল, বেতবুনিয়া বাজার পাড়া এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ার ঘাট, পূর্ব ফাঁড়ির বিল, নলবনিয়া, আঞ্জুমান পাড়া, বালুখালী, দক্ষিণ বালুখালী এলাকা কেঁপে ওঠে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে দেশটি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ১৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। এ নিয়ে গত রবিবার থেকে দেশটির মোট ২৬৪ জন পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এঁদের বেশির ভাগ বিজিপির সদস্য।

রামু সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মেহেদি হোসাইন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের ভেতরে যাতে প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, তাঁরা বর্ডার গার্ড পুলিশের অ্যাসোসিয়েটেড। ভাষাগত ও অন্যান্য সমস্যার কারণে এর বাইরে আমরা পরিচয় বের করতে পারিনি।’ এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরাপদে থাকবেন। এই মুহূর্তে প্রয়োজন না হলে সীমান্তের কাছাকাছি যাবেন না।


আরও খবর



জনবল সংকট সত্বেও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ট্রেনের উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধি

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪৭জন দেখেছেন

Image

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ব্যাপক জনবল সংকট ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা সত্বেও দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে ৩ ইউনিট মেরামত লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কোচ মেরামতের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) ৪ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে।

নতুন নতুন রেলরুট চালু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ চালু হওয়ায় যেমন কোচের চাহিদা বেড়েছে তেমনি নতুন ট্রেন চালু করতেও অনেক কোচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে পুরাতন ট্রেন মেরামত ও নতুন ট্রেন সংযোজনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জোগান দিতে কারখানায় এই কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

রেলের সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার রেলবান্ধব। ফলে সারাদেশে রেলপথ বাড়ানো হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ চালুর পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে বেশ কিছু নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। দিতে হচ্ছে কোচের জোগান। ফলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উপর চাপ বেড়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ক্যারেজ শপের (উপ-কারখানা) ইনচার্জ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রতিদিন ৩ ইউনিট কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতিদিন দুই ইউনিটে একটি পূর্ণাঙ্গ কোচ বুঝানো হয়। সেক্ষেত্রে আমরা চলতি অর্থ বছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ৩১৭টি কোচ মেরামত করেছি। অর্থাৎ প্রতিদিন ৪ ইউনিট মেরামত কাজ হয়েছে।

কারখানা সূত্র জানায়, সৈয়দপুর কারখানায় চরম লোকোবল সংকট রয়েছে। এখানে দুই হাজার ৮৫৯ জনের স্থলে লোকোবল রয়েছে মাত্র ৮২০ জন। কারখানার ২৮টি উপ-কারখানায় (শপ) উৎপাদন চলছে সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে। মাত্র ২৮ শতাংশ লোক কর্মরত আছেন ১১০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা বিশাল ওই কারখানাটিতে। 

এছাড়াও কারখানায় বাজেট স্বল্পতা রয়েছে। চলতি বছরে মাত্র ২০ কোটি টাকা বাজেট মিলেছে। বাজেটের টাকায় মেরামত কাজে ব্যবহৃত উৎপাদন ও উপকরণ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন দেয়া হয় রাজস্ব খাত থেকে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শূন্যপদে লোক নিয়োগ জরুরি। সেইসাথে বাজেট দ্বিগুন করা না হলে উৎপাদন ব্যহত হতে পারে। 

কারখানা সূত্রে জানা যায়, উপরের চাহিদা অনুযায়ী অবিশ্রান্ত কাজ করছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিরা। রেলপথে চলাচলের পর অনুপোযোগী হয়ে পড়া কোচগুলো সৈয়দপুর কারখানায় এনে প্রয়োজনে মেরামত সেরে পূনরায় পাঠিয়ে দেয়া হয় রেলপথে।

সরজমিনে দেখা যায়, ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ক্যারেজ শপে চলছিল ভারি মেরামত কাজ। একটি ক্যারেজের বগির ওপর (আন্ডারফ্রেম) ক্রেনের মাধ্যমে স্থাপন করা হচ্ছে সুপার স্ট্রাকচার। পাশেই বগি শপে চলছিল চ্যাচিজ মেরামতের কাজ। এছাড়া ক্যারেজ শপে চলছে রেলকোচে রংয়ের প্রলেপ। ১২ হাজার রকম যন্ত্রাংশ তৈরি হয় মেশিনসহ কয়েকটি শপে। যা রেলকোচ, ওয়াগণ ও ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। একটি শপে ট্রেনের ব্রেক তৈরি হচ্ছিল। একটিতে তৈরি হচ্ছিল একটি কোচের সাথে অপর কোচকে জুড়ে দেওয়ার কাপলিং যন্ত্র। এছাড়া ঢাকায় পুড়ে যাওয়া ৩টি কোচও আনা হয়েছে কারখানায়। যেগুলো মেরামত করছিলেন শ্রমিকরা।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) সাদিকুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এখন কাজে তৎপরতা অনেক বেশি। দেশের রেলপথ বাড়ছে। তাই আমাদের ওপর চাপও বেড়েছে। কারখানাটিতে লোকবল সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তবে সীমাবদ্ধতার মাঝেও কারখানার গতি নজীরবিহীনভাবে ধরে রাখায় তিনি শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মুহাম্মদ কুদরত ই খুদা জানিয়েছেন, এখন ম্যানেজমেন্ট লেভেল অনেক ভালো। মূলত ব্যবস্থাপনার কারণেই সৈয়দপুর কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। অবিলম্বে রেলওয়ের সব রকম সীমাবদ্ধতা দুর করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সজাগ আছে বলে জানান তিনি। 


আরও খবর



এপ্রিলের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আভাস

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ২৪জন দেখেছেন

Image

আগামী এপ্রিলের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া থার্মোমিটারের পারদ ওঠতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তিন মাসের এক বুলেটিনে সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান।

এতে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাস পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা/মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে, এই সময়ের মধ্যে দেশের পশ্চিম, উত্তর, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ৪-৮ দিন বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা/মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। মার্চ ও এপ্রিল স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের আভাসও রয়েছে। অন্যদিকে, দেশে তিন থেকে পাঁচটি মৃদু (৩৬-৩৮°সে.) অথবা মাঝারি (৩৮-৪০°সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।


আরও খবর



অপহরণ মামলায় জেল, ভালোবাসা দিবসে আদালতে বিয়ে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | ২৬জন দেখেছেন

Image

প্রথমে প্রেম, তারপর পালিয়ে বিয়ে। যার প্রেক্ষিতে কনের পিতা বরের নামে করেন অপহরণ মামলা। সেই মামলায় কারাগারে যেতে হয় সেই যুবককে। সেখানে কেটে যায় তার দুই মাসের বেশি সময়। 

অবশেষে মুক্তি মিলে তবে...ভালোবাসা দিবসে আদালতে বিয়ে হলো বর ও কনের। ঝিনাইদহের আদালত চত্বরের ক্যান্টিনে আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে মহেশপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী জেসমিন খাতুন আর গোপালপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেনের। এ সময় বর পুলিশের হেফাজতে ছিলেন আর বাইরে অপেক্ষা করছিল কনের পরিবার।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের আদালত চত্ত্বরে। বিয়ের পর সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। জেসমিনকে অপহরণের দায়ে জুবায়েরের জামিন আবেদনে আদালতে এমন রায় দিয়েছেন।

আদালত জানায়, মহেশপুর উপজেলার জুকা গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে ওই গ্রামের স্কুলছাত্রী জেসমিন খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পার্শ্ববর্তী গোপালপুর গ্রামের যুবক জুবায়ের হোসেনের। কয়েক মাস তাদের মোবাইলে প্রেম চলে। বিষয়টি জানাজানি হলে তদের পরিবারের লোকেরা মেনে নেয় না। ফলে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জেসমিনকে পালিয়ে বিয়ে করেন জুবায়ের। এ ঘটনায় ২৪ ডিসেম্বর জেসমিনের বাবা বাদি হয়ে মহেশপুর থানায় জুবায়েরসহ আরও ৪ জনের নামে অপহরণ মামলা করলে গ্রেপ্তার হন জুবায়ের।

পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবার মীমাংসা করে বিয়েতে রাজি হয়ে বুধবার আদালতে জুবায়েরের জামিন আবেদন করেন। ঝিনাইদহের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদৌলা শর্ত দেন ‘৫ লাখ টাকা কাবিনে জেসমিনকে বিয়ে করলে জুবায়ের জামিন দেওয়া হবে’। এই শর্তে রাজি হয়ে আদালতে বিয়ে হয় জুবায়ের ও জেসমিনের।

বর জুবায়ের হোসেন বলেন, ভালোবাসা দিবসে আমার প্রিয় মানুষটাকে পেয়েছি এতেই আমি খুব খুশি। ২ মাস জেল খাটার পর তাকে পেলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. ইশারত হোসেন খোকন বলেন, আদালতের নির্দেশে ৫ লাখ টাকা কাবিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে।


আরও খবর



জ্ঞান ফেরেনি মাওলানা লুৎফর রহমানের, দোয়া চেয়েছে পরিবার

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪২জন দেখেছেন

Image

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ইসলামী বক্তা মাওলানা লুৎফুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মাওলানা লুৎফুর রহমান (৮৪)। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে আছেন।

ওনার ছোট ছেলে আবু সালমান মোহাম্মদ আম্মার জানান, মাওলানা লুৎফুর রহমানের কয়েক দফা সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, এখনো জ্ঞান ফিরেনি। তিনি তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জানা যায়, মাওলানা লুৎফুর রহমানের মস্তিষ্কের রক্তনালিতে বড় ব্লক ধরা পড়েছে। সেই সঙ্গে অত্যধিক তরল জমে আছে । রক্তনালি ব্লকের কারণে একপাশ নাড়তে পারছেন না, এখনো অজ্ঞান অবস্থায় আছেন। এখনো শঙ্কা কাটেনি। চিকিৎসায় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা জানান, ফিডিং টিউবের মাধ্যমে তাকে খাওয়ানো হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকায় অক্সিজেন না নাগলেও লাইফ সাপোর্ট লাগছে। তাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

আবু সালমান মোহাম্মদ আম্মার বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন- ব্রেইনে মেজর স্ট্রোক হয়েছে। বর্তমানে বাম পাশ প্যারালাইজড। ডাক্তাররা নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। খুব কাছের আত্মীয়স্বজন ছাড়া আমরা কাউকে ভিতরে যেতে দিচ্ছি না। অনেকেই আসতে চাচ্ছেন দেখা করতে চাচ্ছেন। তিনি অনুরোধ করে বলেন, কেউ কষ্ট করে হাসপাতালে আসবেন না। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সবাইকে জানানো হবে।

এর আগে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চিকিৎসক মাইনুদ্দিন মানিক। তিনি জানান, মাওলানা লুৎফুর রহমানের অবস্থা সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি সবার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

মাওলানা লুৎফর রহমানের ছোট ছেলে আবু সালমান মোহাম্মদ আম্মার গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার বাবা রামগঞ্জের করপাড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এ সময় তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গেলে দ্রুত তাকে লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে ২০২১ সালে একবার মাইনর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মাওলানা লুৎফর রহমান। এবার নিয়ে তার দ্বিতীয়বার মেজর স্ট্রোক হয়েছে। লুৎফর রহমানের পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরেন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা লুৎফুর রহমান ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। নেতারা তার শয্যা পাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন ও তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

প্রখ্যাত এ আলেমে আল্লামা লুৎফর রহমান একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামি বক্তা। একজন স্বনামধন্য বক্তা হিসাবে দেশে ও বিদেশে তার অনেক পরিচিতি রয়েছে। ব্যক্তিজীবনে মাওলানা লুৎফর রহমান ৫ কন্যা ও ২ ছেলের জনক। পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লামা লুৎফর রহমানের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

আল্লামা লুৎফর রহমান কর্মজীবনে রাজখালি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন অগ্রগতিতে সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।


আরও খবর

হাফেজ বশির আলজেরিয়ার পর ইরানে প্রথম

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪