Logo
আজঃ শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

ঘূর্ণিঝড় হামুন : পায়রা ও চট্টগ্রামে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ অক্টোবর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৬০জন দেখেছেন

Image

ক্রমশ বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন' উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় (১৯.৭০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৭০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকালে আবহাওয়ার ১০ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এটি আজ (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে 8৪৫ কিমি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিমি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩২৫ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কিমি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল (২৫ অক্টোবর ২০২৩) সকাল থেকে দুপুর নাগাদ ভোলার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অতিক্রম করতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিমি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিমি.। যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিমি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরগুলোকে ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঞ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮১মি.মি.) থেকে অতিভারী (৯ ৮৯ মি.মি.) বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মিমি) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধ্বস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


আরও খবর



রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় খোঁজার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৩জন দেখেছেন

Image

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখে সিকিউরিটি কনফারেন্স (এমএসসি) ২০২৪-এর ফাঁকে হোটেল বেয়েরিশার হফে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‌প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় বলেন আমরা সব ধরনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে। জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার সময় কীভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা যায়, সে বিষয়েও তিনি বারবার আলোচনা করেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, বৈঠকে তারা গাজায় নিরপরাধ নারী-পুরুষের ওপর হামলা কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধের মাধ্যমে অন্যরা উপকৃত হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ লিপ্ত দেশগুলোর জন্য তা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এবং তাদের জনগণকে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগ এবং তিনি নিজেও যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলেন তার স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বন্দিদশায় তার অমানবিক কষ্ট এবং তার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের কথা স্মরণ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ স্পষ্টভাবে উঠে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই চমৎকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশিয়া আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুদ্ধের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তারা শুধু যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনা করেছেন।

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. নূর এলাহী মিনা ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৪-এ যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মিউনিখে পৌঁছান। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।


আরও খবর



দীঘির হারানো টাকা উদ্ধার হলো ডিবির সহায়তায়

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৪১জন দেখেছেন

Image

কথিত বিকাশ কর্মকর্তার প্রতারণার ফাঁদে নিজের বিকাশ একাউন্ট থেকে দেড় লাখ টাকা হারিয়েছেন চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে তার হারানো টাকা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (গোয়েন্দা) বিভাগ।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা বুঝে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বাবা অভিনেতা সুব্রত বড়ুয়া এবং মামা ভিক্টর।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গত শনিবার দীঘির মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ওই ব্যক্তি নিজেকে বিকাশ অফিসের কর্মী দাবি করেন। এরপর বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার তথ্য জানিয়ে ঠিক করে দেওয়ার নামে দীঘির কাছে একটি ওটিপি নম্বর চাইলে সরল মনে সেটা দিয়ে দেন অভিনেত্রী। 

এর কিছুক্ষণ পরই বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করলে দীঘি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে এক লাখ ৬২ হাজার টাকা উধাও।’  এ ঘটনায় দীঘি শেরে-বাংলা নগর থানা ও ডিবিতে অভিযোগ করেন। মামলার প্রেক্ষিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় হাতিয়ে নেওয়া টাকা।


আরও খবর

যে কারণে টাকা ফিরিয়ে দিলেন জয়া

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ঈধিকার পর এবার মিমি

মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24




উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা: জবি উপাচার্য

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬০জন দেখেছেন

Image

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, এই যে উদীচীর লক্ষ্য এই লক্ষ্যটা সামনে রেখে ৬৮র পর থেকে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা গিয়েছিল তাদের মধ্যে একটা বিরাট অংশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততা ছিল।

মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শীতকল্প ১৪৩০ শিরোনামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজনে ভাস্কর্য চত্বরে 'বন্ধু এখানে শুকানো পাতার আগুন জ্বালো' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

উপাচার্য বলেন, উদীচী শিল্পীরা অনেকে আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গান গেয়েছেন, আবৃত্তি করেছেন, নাটক করেছেন, পর্যালোচনা দিয়েছেন অর্থাৎ এই যে একটা প্লাটফর্ম এই প্লাটফর্মটা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা মনন বিকাশের একটি জায়গা।

উপাচার্য আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা, নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা, বৈষম্যহীন সমাজ এবং এই যে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র এ রাষ্ট্রটি কেবলমাত্র একটি জাতিসত্তার ধর্মাবলম্বী মানুষের নয়, বাংলাদেশের  মাটির মধ্যে কিন্তু একটা বহুমাত্রিকতা আছে। সেই বহুমাত্রিকতা হচ্ছে আমাদের এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ বসবাস করে এবং সর্বোপরি নারী বা পুরুষ হিসেবে না দেখে আমরা তাকে মানুষ হিসেবে দেখব। 

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের যে পবিত্র সংবিধান আছে সেই সংবিধানে জাতির পিতা চারটি পিলারের কথা বলে গেছেন। যা হচ্ছে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র। তাহলে এখানে ওদের কাজটা কোথায়? উদীচীর কাজটা হচ্ছে এখানে গণতন্ত্র চর্চা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া। 

উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, আজকে যেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আছে একসময় এখানে ব্রাহ্মসমাজ তৈরি হয় তারপরে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকে বের হলে আমরা দেখতে পাই চার্চ আর একটু গেলে মন্দির। আমাদের যে সংস্কৃতি চারপাশে আছে তা দেখে আমি বিশ্বাস করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মন কখনো সংকীর্ণ হতে পারেনা। পুরান ঢাকায় ২২০০ পুরনো বাড়ি আছে যেটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলেছে আমাকে। তারা আমাকে বলেছেন, ' যে আপা আপনি প্রত্নতত্ত্ব  বিভাগ খুলেন এখানে' আমি সেটাও চিন্তা করেছি।

উপাচার্য সাদেকা হালিম আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে। এজন্য উদীচীকে এগিয়ে যেতে হবে। উদীচী গান করবে তবে ছোট জায়গায় নয়, তারা চার্চে গিয়ে গান করবে, ধুপখোলা মাঠে, ট্রাকের উপরে, খোলা রাস্তায় গান করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্র্যান্ডিং করতে চাই সে ব্র্যান্ডিংকরবে আমার শিক্ষার্থীরা। আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা একটি অসম্প্রদায়িক সমাজ সংস্কৃতি তৈরি করবে যেখানে নারী পুরুষের সমান অধিকার থাকবে। আমি প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি সুসংবাদ শুনতে চাই অন্তত মাসে একবার হলেও হোক সেটা।  

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, এই উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যাত্রা অনেক কঠিন। তারা ১৯৯০ সালে বোমা হামলা শিকার হয়। আমরা জানি সেই মামলা আজও নিষ্পত্তি হয়নি। সেখানে প্রায় ১০ জন কর্মী নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে। বারবারই উদীচীর উপর আক্রমণ আসে। কারা আক্রমণ করে সে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ তাদের থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে এই বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তান নয়। সেটা আমরা ৫২ বছর আগে ফয়সালা করেছি। সেই ফয়সালা শক্তি নিয়ে কিন্তু আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

অধ্যাপক সাদেকা হালিম আরও বলেন, 'বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিশ্বের মানচিত্রের মধ্যে এটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে তার আগে থেকেই আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। এই অগ্রযাত্রার হাতিয়ার হতে হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। প্রজন্মকে তৈরি হতে হবে এমন ভাবে যেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমি গান গাইতে, নাচতে, আবৃতি করতে পারি। পাশাপাশি আমাদের ভালো ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও সামাজিক বিজ্ঞানী হতে হবে। চারুকলার একজন শিক্ষার্থী হয়ে আলো ছড়িয়ে দিতে হবে আমি যা কিছু শিখেছি চারপাশে। আমি কিন্তু সেটাই চাই। আমি এই জন্য এখানে এসেছি, তোমাদেরকে নিয়ে যেতে।'

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম বলেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সারাবছর তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলমান রাখে। দেশীয় যে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীন সমাজের ইতিহাস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে উদীচীর শিল্পীগোষ্ঠীরা কাজ করে। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে উদীচী সুদৃঢ় মনোভাব জাগ্রত করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর

চবি ছাত্রলীগে ফের উত্তেজনা

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন যেসব অভিনেত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭৫জন দেখেছেন

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শোবিজ তারকারা। সে দৌড়ে মঙ্গলবার মোট ১২জন তারকাশিল্পী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, নিপুণ আক্তার, সোহানা সাবা, শাহানূর ও উর্মিলা শ্রাবন্তী কর।

এ সময় অপু বিশ্বাস বলেন, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা থেকে মনোনয়নপত্র কিনলাম আমি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। দোয়া রাখবেন, আমি যেন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেন কাজ করতে পারি।

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অভিনেত্রী নিপুন আক্তার। তিনি সঙ্গে রিয়াজকেও নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে।

এদিকে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলা থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন চিত্রনায়িকা সোহানা সাবা ।

ফরম সংগ্রহ শেষে সোহানা সাবা বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৩ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি শুধু আওয়ামীলীগপন্থিই ছিলেন না, তিনি দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশের কথা ভাবলে আওয়ামী লীগের কথা ভাবতে হবে।

এটা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আমরা খুবই ভাগ্যবান যে টানা ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, ইনশাল্লাহ আরও পাঁচ বছরও থাকবে। সেজন্য আমি অবশ্যই চাই আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে।

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেত্রীদের বাদ দিয়ে কেন আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমিও কাজ করতে চাই বা করতে পারি। অনেকেই আমার থেকে বয়সে ও কাজে সিনিয়র আছেন। তার মানে এই নয় যে, নতুনরা কাজ করবে না বা এগিয়ে যাবে না।

নতুনদেরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সব জেনারেশন যদি হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দেশের জন্য ভালো কিছুই হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন অভিনেত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার শাহনূর। মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তিনি।

মনোয়ন ফরম সংগ্রহের পর শাহনূর বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বিরোধী দলের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলাম। আমি নিজেও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনীত করলে আমি তার কথা অনুসারে কাজ করতে চাই। এছাড়া নারীদের জন্য কাজ করতে চান বলে জানান তিনি।

উর্মিলা বলেন, আমার লম্বা একটা পলিটিক্যাল জার্নি রয়েছে। সবাই কমবেশি জানেন আমি ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সংগঠনের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছি। দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করলাম।

এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম তুলেছেন চিত্রনায়িকা সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিন জাহান, তানভিন সুইটি, রোকেয়া প্রাচী, মেহের আফরোজ শাওন, জাকিয়া মুন, শামিমা তুষ্টিসহ মোট ১২ জন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র বলছে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের ৮টি বিভাগের ১৭১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মননের ফর্ম বিক্রি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৫০টি। প্রথম ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে, ৩৪টি।

এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২২টি, খুলনা বিভাগের ১৭টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ১৬টি, রংপুর বিভাগের ১৪টি, বরিশাল বিভাগের ১৩টি এবং সিলেট বিভাগে ৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে।


আরও খবর



অমর ২১শে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬০জন দেখেছেন

Image

অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর গৌরবময় দিন। বাঙালির আত্মগৌরবের স্মারক অমর একুশের এদিনে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মহান ভাষা শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। যাদের ত্যাগে বাংলা বিশ্ব আসনে পেয়েছে গৌরবের সুউচ্চ আসন। একুশের প্রথম প্রহর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে মহান ভাষা শহীদদের। সকালে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় ভাষা শহীদদের।

মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২-এ জীবন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহ সহ নাম না জানা অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে মুখে মুখে বাংলা ভাষা। বাংলায় রচিত হচ্ছে হাজারো গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস আর অজস্র কথামালা। আজকের দিনটি শুধু সেই বীর ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর, যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। দিনটি কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব প্রান্তে পালিত হচ্ছে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। 

একুশের এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাঁথা রচনা করেছিলেন, তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। 

এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চার জন, চার জন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বিকাল ৩টায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল ৪টায় পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। শহীদদের স্মরণে সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার। 


আরও খবর